১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সাংহাই আন্তর্জাতিক উৎসবে যাচ্ছে ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে)’

চীনের মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ-এর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে)’। ছবির প্রযোজক ও অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক সম্প্রতি এই আনন্দ সংবাদটি গণমাধ্যমকে জানান। এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগটি এশিয়ার উদীয়মান ও প্রতিভাবান নির্মাতাদের কাজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য পরিচিত, তাই বাংলাদেশের এই ছবির মনোনয়নকে বড় ধরণের সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সাদা-কালো এই চলচ্চিত্রে কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিকতাকে কেন্দ্র করে একজন অন্ধ নারীর আত্মমুক্তির সংগ্রাম দেখানো হয়েছে। একই সাথে ছবিটিতে তিন নারীর জীবন ও তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে উঠেছে। নির্মাতার ভাষ্য, নারীর স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো চলচ্চিত্রটিতে কাব্যিক ও সংবেদনশীলভাবে প্রদর্শিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেবে।

নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ, প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক এবং ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা সানজাদা আক্তার জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাংহাই উৎসবে এসে অংশ নেবেন। আগামী ১৫ জুন ছবির নির্ধারিত প্রদর্শনীতে তারা উপস্থিত থাকবেন এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকদের সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেবেন। নির্মাতা ও প্রযোজক এই মনোনয়নকে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার বড় অর্জন এবং টিমের দীর্ঘ পরিশ্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চলচ্চিত্রটির কাজ সহজ ছিল না; ২০২২ সালে শুটিং শুরু হলেও ২০২৩ সালে কিছু ফুটেজ আকস্মিকভাবে হারিয়ে বড় ধরনের প্রোডাকশন সংকটে পড়তে হয় টিমকে। পরে পুনরায় শুটিং করে ২০২৫ সালে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। ছবিটি কাস্টে আছেন সানজিদা আক্তার ছাড়াও তাহমিদা রহমান, সুমাইয়া হকসহ একঝাঁক তরুণ শিল্পী—তাদের চেষ্টা ও নিষ্ঠাই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মূল ভিত্তি।

সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর নির্মাতা পরিকল্পনা করছেন ছবিটিকে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শনের। বিশ্বের মঞ্চে পরিক্রমা শেষ হলে প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক ছবিটি দেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেবেন। সংশ্লিষ্টদের মনে হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গল্পের উপস্থিতি দেশীয় চলচ্চিত্রকে নতুন দিশা দেখাবে এবং তরুণ নির্মাতাদের বিশ্বমানের কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

এই মনোনয়ন ও উৎসবে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বাধীন ও চলমান চলচ্চিত্রপ্রচেষ্টার জন্য এক উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা, যে বার্তাটি নির্মাতা ও কলাকুশলীদের দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সাংহাই আন্তর্জাতিক উৎসবে যাচ্ছে ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে)’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

চীনের মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ-এর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে)’। ছবির প্রযোজক ও অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক সম্প্রতি এই আনন্দ সংবাদটি গণমাধ্যমকে জানান। এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগটি এশিয়ার উদীয়মান ও প্রতিভাবান নির্মাতাদের কাজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য পরিচিত, তাই বাংলাদেশের এই ছবির মনোনয়নকে বড় ধরণের সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সাদা-কালো এই চলচ্চিত্রে কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিকতাকে কেন্দ্র করে একজন অন্ধ নারীর আত্মমুক্তির সংগ্রাম দেখানো হয়েছে। একই সাথে ছবিটিতে তিন নারীর জীবন ও তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে উঠেছে। নির্মাতার ভাষ্য, নারীর স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো চলচ্চিত্রটিতে কাব্যিক ও সংবেদনশীলভাবে প্রদর্শিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেবে।

নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ, প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক এবং ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা সানজাদা আক্তার জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাংহাই উৎসবে এসে অংশ নেবেন। আগামী ১৫ জুন ছবির নির্ধারিত প্রদর্শনীতে তারা উপস্থিত থাকবেন এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকদের সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেবেন। নির্মাতা ও প্রযোজক এই মনোনয়নকে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার বড় অর্জন এবং টিমের দীর্ঘ পরিশ্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চলচ্চিত্রটির কাজ সহজ ছিল না; ২০২২ সালে শুটিং শুরু হলেও ২০২৩ সালে কিছু ফুটেজ আকস্মিকভাবে হারিয়ে বড় ধরনের প্রোডাকশন সংকটে পড়তে হয় টিমকে। পরে পুনরায় শুটিং করে ২০২৫ সালে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। ছবিটি কাস্টে আছেন সানজিদা আক্তার ছাড়াও তাহমিদা রহমান, সুমাইয়া হকসহ একঝাঁক তরুণ শিল্পী—তাদের চেষ্টা ও নিষ্ঠাই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মূল ভিত্তি।

সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর নির্মাতা পরিকল্পনা করছেন ছবিটিকে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শনের। বিশ্বের মঞ্চে পরিক্রমা শেষ হলে প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক ছবিটি দেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেবেন। সংশ্লিষ্টদের মনে হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গল্পের উপস্থিতি দেশীয় চলচ্চিত্রকে নতুন দিশা দেখাবে এবং তরুণ নির্মাতাদের বিশ্বমানের কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

এই মনোনয়ন ও উৎসবে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বাধীন ও চলমান চলচ্চিত্রপ্রচেষ্টার জন্য এক উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা, যে বার্তাটি নির্মাতা ও কলাকুশলীদের দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরেছে।