০২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি

শহীদ জিয়ার দেখানো পথই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে পথে চলেছিলেন, সেই পথই বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম জীবনরক্ষাকবচ। শুক্রবার (২৯ মে) ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের নেতৃত্ব—এসব কীর্তির কারণে জিয়াউর রহমান জাতির ইতিহাসে বীরনায়কের মর্যাদা লাভ করেন। ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতির তরুণ-ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজয়ের পরও দেশের মানুষের ওপর দমন ও অগণতান্ত্রিক শাসন বিরাজ করেছিল। সেই অনిశ্চিত পরিবেশে সিপাহি ও জনগণের প্রতিবাদে জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রেস ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বনির্ভরতার চেষ্টা চালান—বক্তৃতায় এ মন্তব্য রাখা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তিনি দুর্নীতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে ঘৃণা করতেন; ব্যক্তিগত জীবনেও গতিশীল স্বচ্ছতার পরিচয় ছিল। তার নেতৃত্বেই বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়, যা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি করে।’’

শাহাদাত ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা তাঁর জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাঁকে হত্যা করা হয়—এতে জাতি এক মহান দেশপ্রেমিক হারায়। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই তাঁকে বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি।’’ তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণেই বেগম খালেদা জিয়া বহু ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়ন অগ্রসর করেছিলেন।

বর্তমান ও গত শাসনকালে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে মির্জা ফখরুল আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, ‘‘গত অনেক বছর মানুষের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে; গুম, হত্যা ও নির্যাতন ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনমানসে গড়ে ওঠা প্রতিবাদে ক্ষমতাবদলের দাবি তাদের নেতিবাচক আখ্যা নয়—এ ধরনের বক্তব্য বিবৃতিতে দলের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বিএনপি ও জোট সরকারের লক্ষ্য থাকবে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা; গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল ও টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শহীদ জিয়ার আদর্শ ও পথ বুকে ধারণ করেই এগোতে হবে এবং কঠোর গণঐক্য গঠন করতে হবে।’’

বিবৃতির শেষ অংশে তিনি দলের নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আহ্বান জানান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

শহীদ জিয়ার দেখানো পথই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে পথে চলেছিলেন, সেই পথই বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম জীবনরক্ষাকবচ। শুক্রবার (২৯ মে) ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের নেতৃত্ব—এসব কীর্তির কারণে জিয়াউর রহমান জাতির ইতিহাসে বীরনায়কের মর্যাদা লাভ করেন। ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতির তরুণ-ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজয়ের পরও দেশের মানুষের ওপর দমন ও অগণতান্ত্রিক শাসন বিরাজ করেছিল। সেই অনిశ্চিত পরিবেশে সিপাহি ও জনগণের প্রতিবাদে জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রেস ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বনির্ভরতার চেষ্টা চালান—বক্তৃতায় এ মন্তব্য রাখা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তিনি দুর্নীতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে ঘৃণা করতেন; ব্যক্তিগত জীবনেও গতিশীল স্বচ্ছতার পরিচয় ছিল। তার নেতৃত্বেই বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়, যা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি করে।’’

শাহাদাত ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা তাঁর জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাঁকে হত্যা করা হয়—এতে জাতি এক মহান দেশপ্রেমিক হারায়। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই তাঁকে বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি।’’ তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণেই বেগম খালেদা জিয়া বহু ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়ন অগ্রসর করেছিলেন।

বর্তমান ও গত শাসনকালে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে মির্জা ফখরুল আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, ‘‘গত অনেক বছর মানুষের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে; গুম, হত্যা ও নির্যাতন ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনমানসে গড়ে ওঠা প্রতিবাদে ক্ষমতাবদলের দাবি তাদের নেতিবাচক আখ্যা নয়—এ ধরনের বক্তব্য বিবৃতিতে দলের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বিএনপি ও জোট সরকারের লক্ষ্য থাকবে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা; গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল ও টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শহীদ জিয়ার আদর্শ ও পথ বুকে ধারণ করেই এগোতে হবে এবং কঠোর গণঐক্য গঠন করতে হবে।’’

বিবৃতির শেষ অংশে তিনি দলের নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আহ্বান জানান।