০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জনতুষ্টি নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী হামের তাণ্ডবের মাঝে ডেঙ্গু নিয়েও সতর্কতা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ

সুন্দরবন তিন মাস বন্ধ: কে দেখবে বননির্ভর মানুষের হাহাকার?

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশ এবং মাছ, কাঁকড়া আহরণ ও মধু সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এই সময়ই সুন্দরবনের মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম; অধিকাংশ প্রজাতি ডিম দিয়ে পুনরুৎপাদন করে এবং বনজ উদ্ভিদের স্বাভাবিক পুনরুত্থানও শুরু হয়। বন্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ হিসেবে নতুন কোনো পাস বা অনুমতিপত্র আর দেওয়া হচ্ছে না। বন বিভাগ আরও জানিয়েছে, ১ জুন থেকে বন এলাকা পরিত্যাগ করার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনও অননুমোদিত প্রবেশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে বনভিত্তিক হাজারো মানুষের মধ্যে। সুন্দরবন নির্ভর জেলে, মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীরা বলছেন, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পরে। অনেকেই ঋণ করে সংসার চলান; মেয়াদ কেটে গেলে মহাজনসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে ধারগ্রস্ততা বাড়ে। সরকারি কোনো সহায়তা না থাকায় এই সময় তাঁরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।

প্রভাবিতরা দাবি করেছেন, ছয় থেকে আট সপ্তাহ নয়—পুরো তিন মাসের এই নির্বিঘ্ন স্থগিতাদেশে খাদ্যসহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনা না থাকলে পরিবারগুলি ভক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়বে। তারা প্রশাসনের কাছে প্রাথমিক খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ, ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চেয়েছেন।

বন বিভাগ বলছে, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তবে বননির্ভর মানুষের জীবনধারা ও আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে ক্ষতিপূরণ, অস্থায়ী কর্মসংস্থান বা সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুতরভাবে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও উঠেছে। কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও সহায়তা না হলে সীমিত সময়ের এই সংরক্ষণমূলক পরিকল্পনাও মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে

সুন্দরবন তিন মাস বন্ধ: কে দেখবে বননির্ভর মানুষের হাহাকার?

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশ এবং মাছ, কাঁকড়া আহরণ ও মধু সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এই সময়ই সুন্দরবনের মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম; অধিকাংশ প্রজাতি ডিম দিয়ে পুনরুৎপাদন করে এবং বনজ উদ্ভিদের স্বাভাবিক পুনরুত্থানও শুরু হয়। বন্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ হিসেবে নতুন কোনো পাস বা অনুমতিপত্র আর দেওয়া হচ্ছে না। বন বিভাগ আরও জানিয়েছে, ১ জুন থেকে বন এলাকা পরিত্যাগ করার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনও অননুমোদিত প্রবেশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে বনভিত্তিক হাজারো মানুষের মধ্যে। সুন্দরবন নির্ভর জেলে, মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীরা বলছেন, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পরে। অনেকেই ঋণ করে সংসার চলান; মেয়াদ কেটে গেলে মহাজনসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে ধারগ্রস্ততা বাড়ে। সরকারি কোনো সহায়তা না থাকায় এই সময় তাঁরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।

প্রভাবিতরা দাবি করেছেন, ছয় থেকে আট সপ্তাহ নয়—পুরো তিন মাসের এই নির্বিঘ্ন স্থগিতাদেশে খাদ্যসহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনা না থাকলে পরিবারগুলি ভক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়বে। তারা প্রশাসনের কাছে প্রাথমিক খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ, ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চেয়েছেন।

বন বিভাগ বলছে, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তবে বননির্ভর মানুষের জীবনধারা ও আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে ক্ষতিপূরণ, অস্থায়ী কর্মসংস্থান বা সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুতরভাবে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও উঠেছে। কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও সহায়তা না হলে সীমিত সময়ের এই সংরক্ষণমূলক পরিকল্পনাও মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।