০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৩ লাখ টাকা জরিমানা রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে কাল হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হজ শেষ: দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা

ডোনাল্ড ট্রাম্প: ‘ইরানে যাওয়া ছিল আমাদের বড় ভুল’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে এগুলোকে ‘চরম বোকামি’ বলেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাগদাদে অবস্থান করা বা ইরানে জড়ানো কখনই উচিত হয়নি — এটা শুরু থেকেই একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি দেখেই তিনি সেই সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এক ধরণের অনাবশ্যক দুরবস্থা সৃষ্টি করেছিল, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। তিনি বলছেন, অতীতের এসব পদক্ষেপই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি এবং ব্যয়বহুল ফল বয়ে এনেছে।

ইরান নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন যে বর্তমান সময়ে ইরানে মার্কিন উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল না। তবু তিনি প্রায় নয় মাস আগে ইরানের ওপর বি-২ বোমাবিমান দিয়ে চালানো হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তাঁর যুক্তি, ওই সময় না গেলে ইরান অনায়াসেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত এবং তখন পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ভূদৃশ্য বদলে যেত — এমনকি ইসরায়েলের অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারত। সেই কারণে তিনি ওই নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপটিকে অঞ্চলটির নিরাপত্তার জন্য জরুরি মনে করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুরো সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ইরানের সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক আঘাত করা হয় না। তবে নেতৃত্বের স্তরে থাকা কট্টরপন্থী ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, কোনো দেশের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করলে তা পুনর্গঠনে যুগ লাগে — রোলব্যাক করতে ৪০ বছরের মতো সময় লাগতে পারে — এবং সেটাই তিনি চাননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা জাগিয়েছে। তিনি পুরনো নীতির বদলে ‘নিযন্ত্রিত ও কৌশলগত’ পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন—সংক্রান্ত হিসেবে ঢালাও যুদ্ধ নয়, লক্ষ্যভিত্তিক নেতৃত্ব পরিবর্তনই বেশি কার্যকর। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তার এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

শেষে ট্রাম্প বলেন, তার সময়ের সামরিক কৌশলগুলো সুপরিকল্পিত ছিল। তিনি সতর্ক করেছেন যে কোনো দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করে দিলে তা দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করে, তাই তিনি ইরানের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না করে কেবল শীর্ষ নেতৃত্বে কার্যকর হস্তক্ষেপ করেছেন। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট: তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে চান, তবে প্রয়োজনে কৌশলগত আক্রমণের বিকল্পও তিনি কার্যকর করে দেখাতে প্রস্তুত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

ডোনাল্ড ট্রাম্প: ‘ইরানে যাওয়া ছিল আমাদের বড় ভুল’

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে এগুলোকে ‘চরম বোকামি’ বলেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাগদাদে অবস্থান করা বা ইরানে জড়ানো কখনই উচিত হয়নি — এটা শুরু থেকেই একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি দেখেই তিনি সেই সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এক ধরণের অনাবশ্যক দুরবস্থা সৃষ্টি করেছিল, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। তিনি বলছেন, অতীতের এসব পদক্ষেপই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি এবং ব্যয়বহুল ফল বয়ে এনেছে।

ইরান নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন যে বর্তমান সময়ে ইরানে মার্কিন উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল না। তবু তিনি প্রায় নয় মাস আগে ইরানের ওপর বি-২ বোমাবিমান দিয়ে চালানো হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তাঁর যুক্তি, ওই সময় না গেলে ইরান অনায়াসেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত এবং তখন পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ভূদৃশ্য বদলে যেত — এমনকি ইসরায়েলের অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারত। সেই কারণে তিনি ওই নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপটিকে অঞ্চলটির নিরাপত্তার জন্য জরুরি মনে করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুরো সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ইরানের সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক আঘাত করা হয় না। তবে নেতৃত্বের স্তরে থাকা কট্টরপন্থী ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, কোনো দেশের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করলে তা পুনর্গঠনে যুগ লাগে — রোলব্যাক করতে ৪০ বছরের মতো সময় লাগতে পারে — এবং সেটাই তিনি চাননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা জাগিয়েছে। তিনি পুরনো নীতির বদলে ‘নিযন্ত্রিত ও কৌশলগত’ পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন—সংক্রান্ত হিসেবে ঢালাও যুদ্ধ নয়, লক্ষ্যভিত্তিক নেতৃত্ব পরিবর্তনই বেশি কার্যকর। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তার এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

শেষে ট্রাম্প বলেন, তার সময়ের সামরিক কৌশলগুলো সুপরিকল্পিত ছিল। তিনি সতর্ক করেছেন যে কোনো দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করে দিলে তা দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করে, তাই তিনি ইরানের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না করে কেবল শীর্ষ নেতৃত্বে কার্যকর হস্তক্ষেপ করেছেন। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট: তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে চান, তবে প্রয়োজনে কৌশলগত আক্রমণের বিকল্পও তিনি কার্যকর করে দেখাতে প্রস্তুত।