০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ড. খলিলুর রহমান জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪ প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশ: ওসি মনির হোসেনকে লিগ্যাল নোটিশ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করার অভিযোগে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনকে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কক্সবাজারের এসপিকেও প্রদত্ত করা হয়েছে।

নোটিশটি বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে, বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তরসহ কয়েকটি পেপার ও অনলাইন পাতায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে ঘটনার ভিকটিমের ছবি এবং পরিচয় চকরিয়া থানা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

লিখিত নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির ছবি, পরিচয় বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ যা থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়—সেগুলো প্রকাশ করা আইন, মানবাধিকার ও ভিকটিম সুরক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী। দেশের উচ্চ আদালতও স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ভিকটিমদের ছবি ও পরিচয় প্রচারের ক্ষেত্রে ফর্সা হওয়া যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী এবং ভিকটিমের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এমন অনাভিপ্রেত প্রকাশ ভুক্তভোগীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ সাংবাদিকদের জানান, ‘‘ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের ছবি ‘চকরিয়া পুলিশ স্টেশন’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত হওয়ার খবর আমাদের কাছে এসেছে। যদি তা সত্যি হয়ে থাকে তবে অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি সেটি এখনও প্রত্যক্ষভাবে দেখিনি।’’

নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বলেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে বিনা অভিযোজনে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রতিকার নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশ: ওসি মনির হোসেনকে লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করার অভিযোগে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনকে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কক্সবাজারের এসপিকেও প্রদত্ত করা হয়েছে।

নোটিশটি বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে, বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তরসহ কয়েকটি পেপার ও অনলাইন পাতায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে ঘটনার ভিকটিমের ছবি এবং পরিচয় চকরিয়া থানা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

লিখিত নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির ছবি, পরিচয় বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ যা থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়—সেগুলো প্রকাশ করা আইন, মানবাধিকার ও ভিকটিম সুরক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী। দেশের উচ্চ আদালতও স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ভিকটিমদের ছবি ও পরিচয় প্রচারের ক্ষেত্রে ফর্সা হওয়া যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী এবং ভিকটিমের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এমন অনাভিপ্রেত প্রকাশ ভুক্তভোগীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ সাংবাদিকদের জানান, ‘‘ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের ছবি ‘চকরিয়া পুলিশ স্টেশন’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত হওয়ার খবর আমাদের কাছে এসেছে। যদি তা সত্যি হয়ে থাকে তবে অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি সেটি এখনও প্রত্যক্ষভাবে দেখিনি।’’

নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বলেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে বিনা অভিযোজনে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রতিকার নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।