০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ড. খলিলুর রহমান জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪ প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

বিভাগীয় সভায় বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াটবিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আগে নির্ধারিত ৯ টাকা ১১ পয়সার বদলে এখন গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৬৩ পয়সা দিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, নতুন এই দাম চলতি জুন মাসের বিলিং সময় থেকেই কার্যকর হবে।

বিইআরসি শুধুই খুচরা নয়, পাইকারি পর্যায়ের দামও বাড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে এখন ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। একই সাথে সঞ্চালন চার্জেও সমন্বয় আনা হয়েছে — আগের শূন্য দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে এটি শূন্য দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৩৮৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে যে মূল্য নির্ধারণের আগে তারা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানির মাধ্যমে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির ওপর বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছিল। সেই গণশুনানি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

দামের এই বৃদ্ধি সম্পর্কে জানা যায়, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিইআরসির কাছে আলাদা আলাদা দর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। কোম্পানিগুলো আবেদন করেছিল প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে শুরু করে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ। তাদের মধ্যে পিডিবি সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা জমা করেছিল এবং নেসকো সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধি দাবি করেছিল। অন্যদের মধ্যে আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সকল আবেদন বিবেচনায় নিয়ে কমিশন গড় হার হিসেবে এই নতুন মূল্য তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

কমিশন সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় সামঞ্জস্য এবং আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এই মূল্যসমন্বয় প্রয়োজন ছিল। এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের বিদ্যুত বিলকে বৃদ্ধি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছে বলা হয়েছে। কমিশনও নিশ্চিত করেছে যে গ্রাহকরা চলতি মাসের থেকেই নতুন হিসাব অনুযায়ী বিল পাবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

বিভাগীয় সভায় বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াটবিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আগে নির্ধারিত ৯ টাকা ১১ পয়সার বদলে এখন গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৬৩ পয়সা দিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, নতুন এই দাম চলতি জুন মাসের বিলিং সময় থেকেই কার্যকর হবে।

বিইআরসি শুধুই খুচরা নয়, পাইকারি পর্যায়ের দামও বাড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে এখন ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। একই সাথে সঞ্চালন চার্জেও সমন্বয় আনা হয়েছে — আগের শূন্য দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে এটি শূন্য দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৩৮৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে যে মূল্য নির্ধারণের আগে তারা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানির মাধ্যমে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির ওপর বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছিল। সেই গণশুনানি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

দামের এই বৃদ্ধি সম্পর্কে জানা যায়, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিইআরসির কাছে আলাদা আলাদা দর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। কোম্পানিগুলো আবেদন করেছিল প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে শুরু করে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ। তাদের মধ্যে পিডিবি সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা জমা করেছিল এবং নেসকো সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধি দাবি করেছিল। অন্যদের মধ্যে আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সকল আবেদন বিবেচনায় নিয়ে কমিশন গড় হার হিসেবে এই নতুন মূল্য তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

কমিশন সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় সামঞ্জস্য এবং আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এই মূল্যসমন্বয় প্রয়োজন ছিল। এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের বিদ্যুত বিলকে বৃদ্ধি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছে বলা হয়েছে। কমিশনও নিশ্চিত করেছে যে গ্রাহকরা চলতি মাসের থেকেই নতুন হিসাব অনুযায়ী বিল পাবেন।