মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন এলাকায় ইরানের কয়েকটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের ব্যাখ্যায় বলেছে এটি একটি “প্রতিরক্ষামূলক” পদক্ষেপ; তারা দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এবং ইরানের সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সেই হুমকি কাটাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা ক্ষীণ করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অ্যারোরা এই অভিযানকে বড় কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়— বরং সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেয়ার কথা বলেছে। আইআরজিসি এক ঘোষণায় উল্লেখ করে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘অ্যারোস্পেস মিসাইল’ বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং অভিযানটি নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে দাবি করেছে। ঐ হামলায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে বা কোন প্রাণহানির খবর মেলেনি — আপাতত সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে যায়; ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে বড় ধরণের অসুবিধা দেখা দিতে পারে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক পাল্টাপাল্টি ঘটেছে, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন— পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রাখার এবং কূটনৈতিক পথে ফিরে এসে বৈরিতা মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যগুলো এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনিশ্চিত। যদিও আইআরজিসি হামলার দাবি জানিয়েছে, তবুও তেহরান সরকারের তরফ থেকে ওয়াশিংটনের অভিযানের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক ও সামরিক মহল সবদিক বিবেচনা করে কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মধ্যে পরিস্থিতি ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে; তবু স্থানীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার দায়ে de-escalation বা উত্তেজনা শিথিলকরণই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























