বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশকে যুক্ত করলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাকযোগে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য গতিশীল হবে এবং চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, চট্টগ্রামে ৮শ একরে চাইনিজ শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে মূল্যায়ন করে তিনি জানান, সফরের সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সে বৈঠকের ফলে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে এবং আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের কৌশল হচ্ছে দেশে বেশি করে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
শাহজালাল মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে উঠা সমালোচনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মাজার কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে জায়গা দেওয়া হয়নি; নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপুর্ন বলে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিচারহীনতা থাকলে সমাজে বিশ্বাস ও আইনশাসন দুর্বল হয়। সংবিধানে থাকা মৌলিক অধিকার—সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এসব অধিকার রক্ষায় আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন বলে স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। এজন্য অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কড়া শাস্তির বিধানসহ একটি নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়ার পরে শিগগিরই পাস হবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইনজীবী এবং সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন—এও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজকে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যশালী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নানা প্রতিকূল সময়ে অনেক বিচারপতি ও আইনজীবী ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়েও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন, আর সিলেটের আইনজীবী ও বিচারকরাও এই ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন নির্মাণ এবং আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার মতো বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী সুহেল সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























