০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের তৎপরতা শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ইসি: জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে তাদাও আন্দোর নকশায় আধুনিক ‘বাংলাদেশ চিলড্রেন লাইব্রেরি’ নির্মাণ অক্টোবর থেকে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: তথ্য উপদেষ্টা মানিকগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ার আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা: অক্টোবরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ডিএমপিতে উচ্চপর্যায়ের রদবদল — ৬ ডিসিকে বদলি ডে-কেয়ার সেন্টার দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য: ডা. জুবাইদা রহমান

বন্ধ শিল্প-সেবা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন অচল বা আংশিক সচল থাকা শিল্প ও সেবা খাতগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখী ধারায় ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বিআরপিডি-৩ বিভাগের জারি করা সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি, দায়-দায়িত্ব, প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন এবং চুক্তির খসড়া, অনুমোদনপত্র, ডেবিট অথরিটি, লেটার অব কন্টিনিউটি ও প্রমিসরি নোটের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী এই স্কিম থেকে তহবিল নিতে চাওয়া প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ বা সীমিত উৎপাদন কর্মসূচি চালানো বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করা; বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে, যাতে উৎপাদন বেড়ে কর্মসংস্থানের রক্ষা এবং রপ্তানি আয় উৎসাহিত হয়।

চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু সেইসব বড় কোম্পানিকেই সুবিধা দেওয়া হবে যারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেলে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। ঋণখেলাপি বা অর্থপাচার, জালিয়াতি ও তহবিল অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানদের এই স্কিমের বাইরে রাখা হবে। ব্যাংককে ঋণ অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ইউটিলিটি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এসব যাচাই-নিশ্চয়তার পুরো দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের উপর রয়েছে।

তহবিল ব্যবহারের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা (সর্বোচ্চ চার মাস), গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল, কাঁচামাল ক্রয় এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন। বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি নগদ না দিয়ে অবশ্যই ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করতে হবে। চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই তহবিল পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ে ব্যবহার করা যাবে না; এটি শুধুমাত্র নতুন কার্যকরী মূলধনের চাহিদা মেটাতে হবে। প্রয়োজনে তহবিলের সঠিক ব্যবহারে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে নিজ প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারবে।

প্রতিটি ঋণগ্রহীতা বা কর্পোরেট গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এই স্কিমের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ পেতে পারবে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর; তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক এবং তহবিলের প্রাপ্যতা থাকলে নবায়নের সুযোগ থাকবে। সুদের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফা নিতে পারবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ আদায় করবে।

প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও তদারকির জন্য ব্যাংকগুলোকে তাদের পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদনের সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি-৩ বিভাগে আবেদন জমা দিতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে নজরে রাখা হবে; ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোও তাদের নিজস্ব বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা ও কাঠামো অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বন্ধ শিল্প-সেবা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন অচল বা আংশিক সচল থাকা শিল্প ও সেবা খাতগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখী ধারায় ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বিআরপিডি-৩ বিভাগের জারি করা সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি, দায়-দায়িত্ব, প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন এবং চুক্তির খসড়া, অনুমোদনপত্র, ডেবিট অথরিটি, লেটার অব কন্টিনিউটি ও প্রমিসরি নোটের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী এই স্কিম থেকে তহবিল নিতে চাওয়া প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ বা সীমিত উৎপাদন কর্মসূচি চালানো বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করা; বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে, যাতে উৎপাদন বেড়ে কর্মসংস্থানের রক্ষা এবং রপ্তানি আয় উৎসাহিত হয়।

চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু সেইসব বড় কোম্পানিকেই সুবিধা দেওয়া হবে যারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেলে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। ঋণখেলাপি বা অর্থপাচার, জালিয়াতি ও তহবিল অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানদের এই স্কিমের বাইরে রাখা হবে। ব্যাংককে ঋণ অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ইউটিলিটি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এসব যাচাই-নিশ্চয়তার পুরো দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের উপর রয়েছে।

তহবিল ব্যবহারের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা (সর্বোচ্চ চার মাস), গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল, কাঁচামাল ক্রয় এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন। বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি নগদ না দিয়ে অবশ্যই ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করতে হবে। চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই তহবিল পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ে ব্যবহার করা যাবে না; এটি শুধুমাত্র নতুন কার্যকরী মূলধনের চাহিদা মেটাতে হবে। প্রয়োজনে তহবিলের সঠিক ব্যবহারে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে নিজ প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারবে।

প্রতিটি ঋণগ্রহীতা বা কর্পোরেট গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এই স্কিমের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ পেতে পারবে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর; তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক এবং তহবিলের প্রাপ্যতা থাকলে নবায়নের সুযোগ থাকবে। সুদের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফা নিতে পারবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ আদায় করবে।

প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও তদারকির জন্য ব্যাংকগুলোকে তাদের পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদনের সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি-৩ বিভাগে আবেদন জমা দিতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে নজরে রাখা হবে; ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোও তাদের নিজস্ব বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা ও কাঠামো অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।