০২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ডলার সংকটে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেশি কমছে

ডলার সংকটের কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আমদানি শুল্ক বাড়ানো, শতভাগ পর্যন্ত এলসি মার্জিন নির্ধারণ এবং নিয়মিতভাবে এলসির তথ্য তদারক করা হচ্ছে। মূলত বিলাসী পণ্য আমদানি কমাতে এমন উদ্যোগ। তবে ডলারের সংকটের প্রভাবে দেখা যাচ্ছে মূলধনি যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমছে বেশি। উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য এ দুটি পণ্যের আমদানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৬ হাজার ২৪০ কোটি ডলার সমপরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এ সময়ে এলসি সবচেয়ে কমেছে মূলধনি যন্ত্রপাতির। গত ১১ মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ২৬৯ কোটি ডলারের এলসি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬০০ কোটি ডলার। এর মানে কমেছে ৫৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

কমে যাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিল্পের কাঁচামাল। এর এলসি ৩০ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪২১ কোটি ডলারে নেমেছে। পর্যায়ক্রমে মধ্যবর্তী পণ্যে ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৫২৬ কোটি ডলারে নেমেছে। ভোক্তাপণ্যে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমে নেমেছে ৭১৪ কোটি ডলারে। আর পেট্রোলিয়ামের এলসি ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে নেমেছে ৮৪৪ কোটি ডলারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টাকা থাকলেও ডলার সংকটের কারণে অনেকে এলসি খুলতে পারছেন না। আবার খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে কম। এ ছাড়া বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণেও এলসি কমে থাকতে পারে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে ডলারের দর ধরে রেখেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ব্যাপক চাপের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। একবারে ডলারের দর অনেক বেড়ে বর্তমানে আন্তঃব্যাংকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের শুরুর দিকে যা ৮৬ টাকা ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ব্যাংকগুলো সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ দর ঠিক না করলে পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপ হতো। পাশাপাশি বাজার ঠিক রাখতে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এতে করে ৪৮ বিলিয়নের ওপরে ওঠা রিজার্ভ এখন ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ডলার সংকটে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেশি কমছে

প্রকাশিতঃ ১২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

ডলার সংকটের কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আমদানি শুল্ক বাড়ানো, শতভাগ পর্যন্ত এলসি মার্জিন নির্ধারণ এবং নিয়মিতভাবে এলসির তথ্য তদারক করা হচ্ছে। মূলত বিলাসী পণ্য আমদানি কমাতে এমন উদ্যোগ। তবে ডলারের সংকটের প্রভাবে দেখা যাচ্ছে মূলধনি যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমছে বেশি। উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য এ দুটি পণ্যের আমদানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৬ হাজার ২৪০ কোটি ডলার সমপরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এ সময়ে এলসি সবচেয়ে কমেছে মূলধনি যন্ত্রপাতির। গত ১১ মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ২৬৯ কোটি ডলারের এলসি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬০০ কোটি ডলার। এর মানে কমেছে ৫৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

কমে যাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিল্পের কাঁচামাল। এর এলসি ৩০ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪২১ কোটি ডলারে নেমেছে। পর্যায়ক্রমে মধ্যবর্তী পণ্যে ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৫২৬ কোটি ডলারে নেমেছে। ভোক্তাপণ্যে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমে নেমেছে ৭১৪ কোটি ডলারে। আর পেট্রোলিয়ামের এলসি ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে নেমেছে ৮৪৪ কোটি ডলারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টাকা থাকলেও ডলার সংকটের কারণে অনেকে এলসি খুলতে পারছেন না। আবার খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে কম। এ ছাড়া বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণেও এলসি কমে থাকতে পারে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে ডলারের দর ধরে রেখেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ব্যাপক চাপের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। একবারে ডলারের দর অনেক বেড়ে বর্তমানে আন্তঃব্যাংকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের শুরুর দিকে যা ৮৬ টাকা ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ব্যাংকগুলো সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ দর ঠিক না করলে পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপ হতো। পাশাপাশি বাজার ঠিক রাখতে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এতে করে ৪৮ বিলিয়নের ওপরে ওঠা রিজার্ভ এখন ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।