১১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

নতুন ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ সক্রিয়, দেশকে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে: মির্জা আব্বাস

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের পরে দেশি-বিদেশি মহলের প্ররোচনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিএনপিকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে রাজনীতি শূন্য করে দেওয়ার জন্য নতুন এক ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ সক্রিয় হয়েছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে নানা অপচেষ্টা চালানো। আব্বাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, খাগড়াছড়ির সাজেক অঞ্চল, ও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে কিছু শক্তি অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। যোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন অজুহাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভিন্ন পথে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। আব্বাস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশ বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন নতুন ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ চালু হয়েছে, যা ১/১১ সময়কার একই রকম। তখন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়েছিল। এখন ষড়যন্ত্রকারীরা ভিন্ন আকারে একই পরিকল্পনায় লিপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠী বিএনপিকে ‘অবিশ্বস্ত’ ও ‘খারাপ’ ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে ছদ্মবেশে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এর পেছনে দেশের ভেতরে আওয়ামীপন্থি কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা মনে করছে, বিএনপিকে আটকাতে পারলেই তাদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। আব্বাস বলেন, ‘অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক আমলারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ তারা বিশ্বাস করে, বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিলে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল হবে। তারা প্রতিশোধের মনোভাব নিয়ে বিএনপিকে বাদ দেওয়ার জন্য কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলও একইভাবে কাজ করছে, যেন তারা আওয়ামী লীগের প্রতিরূপ, যা একসময় আওয়ামী লীগ অনুসরণ করেছিল। বিএনপি নেতা বলেছেন, বিভিন্ন ইসলামী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি বিভিন্ন ইস্যু তুলে নির্বাচন পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, তাদের দাবি না মানা হলে নির্বাচন হবে না। আব্বাস বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি, অন্যের হাতে আমাদের দেশ না দেওয়ার জন্য।’ তাঁর মতে, বিদেশিদের সঙ্গে সেন্ট মার্টিন, সাজেক ও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে আলোচনাও একই সূত্রে গাঁথা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি বিপুল জনপ্রিয়তার জন্য জয় লাভ করবে, যদিও কিছু মহল প্রতিহিংসা করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত। তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে আওয়ামী লীগের অনুগত কিছু ব্যক্তিকে সরানো প্রয়োজন, না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হবে। বিএনপি নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারিতে ভোটের প্রত্যাশা করছে। জোটের ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তরে আব্বাস জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, তবে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সময়ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা দেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, প্রফেসর ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা আমাদের বিশ্বাস। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, এ বিষয়ে তার ইচ্ছা ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সেগুলো নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনে থাকলে আলোচনায় থাকবেন কি না, সেটিও সময়ই বলবে। বিভিন্ন ইসলামি দলের জোট গঠন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি এ ব্যাপারে কোনো চিন্তিত নয়, কারণ বাংলাদের সাধারণ মুসলমানরা প্রচলিত ধর্মকে বিশ্বাস করে থাকেন, তারা ধর্মীয় মৌলবাদ বা বিভেদ নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও মধ্যপন্থি দলকেই সমর্থন করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

নতুন ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ সক্রিয়, দেশকে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে: মির্জা আব্বাস

প্রকাশিতঃ ১০:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের পরে দেশি-বিদেশি মহলের প্ররোচনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিএনপিকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে রাজনীতি শূন্য করে দেওয়ার জন্য নতুন এক ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ সক্রিয় হয়েছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে নানা অপচেষ্টা চালানো। আব্বাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, খাগড়াছড়ির সাজেক অঞ্চল, ও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে কিছু শক্তি অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। যোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন অজুহাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভিন্ন পথে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। আব্বাস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশ বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন নতুন ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ চালু হয়েছে, যা ১/১১ সময়কার একই রকম। তখন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়েছিল। এখন ষড়যন্ত্রকারীরা ভিন্ন আকারে একই পরিকল্পনায় লিপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠী বিএনপিকে ‘অবিশ্বস্ত’ ও ‘খারাপ’ ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে ছদ্মবেশে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এর পেছনে দেশের ভেতরে আওয়ামীপন্থি কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা মনে করছে, বিএনপিকে আটকাতে পারলেই তাদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। আব্বাস বলেন, ‘অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক আমলারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ তারা বিশ্বাস করে, বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিলে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল হবে। তারা প্রতিশোধের মনোভাব নিয়ে বিএনপিকে বাদ দেওয়ার জন্য কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলও একইভাবে কাজ করছে, যেন তারা আওয়ামী লীগের প্রতিরূপ, যা একসময় আওয়ামী লীগ অনুসরণ করেছিল। বিএনপি নেতা বলেছেন, বিভিন্ন ইসলামী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি বিভিন্ন ইস্যু তুলে নির্বাচন পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, তাদের দাবি না মানা হলে নির্বাচন হবে না। আব্বাস বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি, অন্যের হাতে আমাদের দেশ না দেওয়ার জন্য।’ তাঁর মতে, বিদেশিদের সঙ্গে সেন্ট মার্টিন, সাজেক ও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে আলোচনাও একই সূত্রে গাঁথা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি বিপুল জনপ্রিয়তার জন্য জয় লাভ করবে, যদিও কিছু মহল প্রতিহিংসা করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত। তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে আওয়ামী লীগের অনুগত কিছু ব্যক্তিকে সরানো প্রয়োজন, না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হবে। বিএনপি নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারিতে ভোটের প্রত্যাশা করছে। জোটের ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তরে আব্বাস জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, তবে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সময়ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা দেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, প্রফেসর ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা আমাদের বিশ্বাস। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, এ বিষয়ে তার ইচ্ছা ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সেগুলো নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনে থাকলে আলোচনায় থাকবেন কি না, সেটিও সময়ই বলবে। বিভিন্ন ইসলামি দলের জোট গঠন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি এ ব্যাপারে কোনো চিন্তিত নয়, কারণ বাংলাদের সাধারণ মুসলমানরা প্রচলিত ধর্মকে বিশ্বাস করে থাকেন, তারা ধর্মীয় মৌলবাদ বা বিভেদ নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও মধ্যপন্থি দলকেই সমর্থন করে।