০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি

হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি

পবিত্র হজ সম্পন্ন করে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের হাজীরা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টাল ও আইটি হেল্প ডেস্কের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী ৩০ মে ভোর ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫টি ফেরত ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে পৌঁছেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি।

এবারের হজে ফেরতদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৪১৬ জন, আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে এসেছেন ৫ হাজার ৭৫৯ জন। ফেরত ফ্লাইট কার্যক্রমটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ফিরতি পরিচালনায় তিনটি এয়ারলাইন সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তিনটি ফ্লাইটে ১ হাজার ১৮৪ জন হাজিকে পরিবহন করেছে, সৌদি এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইটে পাঠিয়েছে ১ হাজার ৬৯১ জন, এবং ফ্লাইনাস আটটি ফ্লাইটে সবচেয়ে বেশি — ৩ হাজার ৩০০ জন — হাজিকে ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে।

ফেরার আনন্দের মাঝে কিছু শোক সংবাদও এসেছে। সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে; তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। মারা যাওয়া হাজিদের মধ্যে ২৭ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এছাড়া অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হাজির সংখ্যা ১৭৬ জন, বর্তমানে ২৬ জন হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাজিদের নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে একটি ویژه সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাজিদের আবাসন, চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপদ ফেরত সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সভায় প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের মোট কোটা ছিল ৭৮ হাজার ৫০০ জন। সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২১ মে পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাসের ধর্মীয় সফর শেষে ৩০ মে থেকে ধাপে ধাপে হাজিরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।

হাজিদের ফিরতি প্রক্রিয়া যাতে কোনো জটিলতা ছাড়া সম্পন্ন হয়, সে জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি ও সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ ফিরতি কার্যক্রমকে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পবিত্র হজ সম্পন্ন করে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের হাজীরা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টাল ও আইটি হেল্প ডেস্কের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী ৩০ মে ভোর ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫টি ফেরত ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে পৌঁছেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি।

এবারের হজে ফেরতদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৪১৬ জন, আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে এসেছেন ৫ হাজার ৭৫৯ জন। ফেরত ফ্লাইট কার্যক্রমটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ফিরতি পরিচালনায় তিনটি এয়ারলাইন সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তিনটি ফ্লাইটে ১ হাজার ১৮৪ জন হাজিকে পরিবহন করেছে, সৌদি এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইটে পাঠিয়েছে ১ হাজার ৬৯১ জন, এবং ফ্লাইনাস আটটি ফ্লাইটে সবচেয়ে বেশি — ৩ হাজার ৩০০ জন — হাজিকে ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে।

ফেরার আনন্দের মাঝে কিছু শোক সংবাদও এসেছে। সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে; তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। মারা যাওয়া হাজিদের মধ্যে ২৭ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এছাড়া অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হাজির সংখ্যা ১৭৬ জন, বর্তমানে ২৬ জন হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাজিদের নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে একটি ویژه সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাজিদের আবাসন, চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপদ ফেরত সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সভায় প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের মোট কোটা ছিল ৭৮ হাজার ৫০০ জন। সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২১ মে পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাসের ধর্মীয় সফর শেষে ৩০ মে থেকে ধাপে ধাপে হাজিরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।

হাজিদের ফিরতি প্রক্রিয়া যাতে কোনো জটিলতা ছাড়া সম্পন্ন হয়, সে জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি ও সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ ফিরতি কার্যক্রমকে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে।