০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি ৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াওয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ টাইমের ‘বিশ্বের সেরা ১০০’ তালিকায় জায়গা পেয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু প্রধানমন্ত্রী জানালেন: সরকারি ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত

বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে চীনের শক্তি প্রদর্শনী

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকীতে বেইজিংয়ে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে চীন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নেতার উপস্থিতিতে বড় আয়োজনে চীনের সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এই শোতে স্টেলথ ফাইটার, ট্যাংক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্রের ব্যাপক প্রদর্শনী দেখা যায়।

বুধবার ভোরে তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে এই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সামরিক মহড়ায় পরিবেশিত অস্ত্রগুলো ছিল বিশ্বের দুই দিকে আধুনিক ও সর্বশেষ প্রযুক্তির।

বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

তিয়ানআনমেনের গেট অব হেভেনলি পিস থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি পিপলস লিবারেশন আর্মি, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রায় ১০,০০০ সদস্যের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রদর্শনীতে শি চিন পিং ঘোষণা করেন, চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে। তিনি জাপানীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চীনের এই নেতা বলেন, যুদ্ধ শেখা শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবজাতি আবারও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি— শান্তি নাকি সংঘর্ষ, সংলাপ নাকি মুখোমুখি যুদ্ধ।

সামরিক প্রদর্শনীতে জীবন্ত থাকেছেঃ হাইপারসোনিক মিসাইল, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এইচএমড্ৰোন, যুদ্ধবিমান, সতর্কতামূলক বিমান ও বিমান জ্যামিং সিস্টেম। পাশাপাশি দেখানো হয় দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল। এই বিশাল আয়োজনের দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০,০০০।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক ইয়ান চং বলেন, এই প্রদর্শনীর পেছনের মূল লক্ষ্য হলো—চীন এক একটি শক্তিশালী জাতীয় দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের চোখে নিজেদের আস্থা বাড়ানো। পাশাপাশি, এই ইভেন্টে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি বোঝাতে চায় যে, চীন কোনো চাপ বা ভয় দেখাচ্ছে না।

প্রদর্শনী চলাকালে আকাশে চীনা বিমান বাহিনীর কসরত দেখানো হয়। তখন ব্যানারে লেখা ছিল— ‘ন্যায়বিচার জয়ী হবে’, ‘শান্তি জয়ী হবে’ এবং ‘জনগণ জয়ী হবে’।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা

বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে চীনের শক্তি প্রদর্শনী

প্রকাশিতঃ ১০:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকীতে বেইজিংয়ে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে চীন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নেতার উপস্থিতিতে বড় আয়োজনে চীনের সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এই শোতে স্টেলথ ফাইটার, ট্যাংক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্রের ব্যাপক প্রদর্শনী দেখা যায়।

বুধবার ভোরে তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে এই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সামরিক মহড়ায় পরিবেশিত অস্ত্রগুলো ছিল বিশ্বের দুই দিকে আধুনিক ও সর্বশেষ প্রযুক্তির।

বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

তিয়ানআনমেনের গেট অব হেভেনলি পিস থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি পিপলস লিবারেশন আর্মি, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রায় ১০,০০০ সদস্যের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রদর্শনীতে শি চিন পিং ঘোষণা করেন, চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে। তিনি জাপানীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চীনের এই নেতা বলেন, যুদ্ধ শেখা শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবজাতি আবারও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি— শান্তি নাকি সংঘর্ষ, সংলাপ নাকি মুখোমুখি যুদ্ধ।

সামরিক প্রদর্শনীতে জীবন্ত থাকেছেঃ হাইপারসোনিক মিসাইল, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এইচএমড্ৰোন, যুদ্ধবিমান, সতর্কতামূলক বিমান ও বিমান জ্যামিং সিস্টেম। পাশাপাশি দেখানো হয় দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল। এই বিশাল আয়োজনের দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০,০০০।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক ইয়ান চং বলেন, এই প্রদর্শনীর পেছনের মূল লক্ষ্য হলো—চীন এক একটি শক্তিশালী জাতীয় দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের চোখে নিজেদের আস্থা বাড়ানো। পাশাপাশি, এই ইভেন্টে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি বোঝাতে চায় যে, চীন কোনো চাপ বা ভয় দেখাচ্ছে না।

প্রদর্শনী চলাকালে আকাশে চীনা বিমান বাহিনীর কসরত দেখানো হয়। তখন ব্যানারে লেখা ছিল— ‘ন্যায়বিচার জয়ী হবে’, ‘শান্তি জয়ী হবে’ এবং ‘জনগণ জয়ী হবে’।