১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

দুদকের স্বর্ণ জব্দ: শেখ হাসিনার পরিবারের ৮৩২.৫ ভরি স্বর্ণ লকারে

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের দুটি লকার থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি (প্রায় ৯ কেজি ৭১৬ গ্রাম) স্বর্ণসম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই স্বর্ণ জব্দের ঘটনা শনিবার ঘটে, যখন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআর’র কর গোয়েন্দা ও সিআইসির দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই লকার খোলা হয়।

২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা পূবালী ব্যাংকে একটি এবং অগ্রণী ব্যাংকে দুটি লকারের সম্পদ বিবরণী জমা দেন, যেখানে ওই সকল লকারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর পুনঃতদনির জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান আদালতে আবেদন করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তিনটি লকারের তালা খোলা হয়।

পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় এই তিনটি লকার খুলে দেখা যায়, যেখানে তথ্য অনুযায়ী ঢোকানো বস্তু ও সম্পদগুলোর বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। পূবালী ব্যাংকের লকার নম্বর ১২৮-এ শেখ হাসিনার নামে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের লকার নম্বর ৭৫১/বড়/১৯৬-এ রাখা ছিল ৪ হাজার ৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আর নম্বর ৭৫৩/বড়/২০০-এ ছিল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্দিকের নামে ৪ হাজার ৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার। এসব লাকার তালিকা প্রস্তুত করে শাখার ব্যবস্থাপক জিম্মায় রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই লকারে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা সিদ্দিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ববি ওয়াজেদের স্বর্ণালংকার থাকতে পারে।

এদিকে, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার আরো একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে সিআইসি।

অন্য দিকে, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও তার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল ওই সময় এ দুজনের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্রোকের নির্দেশ দেয়। অপরাধীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এই জব্দ হওয়া লকারগুলো খুলে সম্পদসমূহের তালিকা তৈরি ও তাদের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তদন্ত ও বিচারের কাজে ব্যবহৃত হবে।

গত বছর, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ব্যাংক লকারসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা এ ধরনের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দুদকের স্বর্ণ জব্দ: শেখ হাসিনার পরিবারের ৮৩২.৫ ভরি স্বর্ণ লকারে

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের দুটি লকার থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি (প্রায় ৯ কেজি ৭১৬ গ্রাম) স্বর্ণসম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই স্বর্ণ জব্দের ঘটনা শনিবার ঘটে, যখন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআর’র কর গোয়েন্দা ও সিআইসির দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই লকার খোলা হয়।

২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা পূবালী ব্যাংকে একটি এবং অগ্রণী ব্যাংকে দুটি লকারের সম্পদ বিবরণী জমা দেন, যেখানে ওই সকল লকারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর পুনঃতদনির জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান আদালতে আবেদন করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তিনটি লকারের তালা খোলা হয়।

পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় এই তিনটি লকার খুলে দেখা যায়, যেখানে তথ্য অনুযায়ী ঢোকানো বস্তু ও সম্পদগুলোর বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। পূবালী ব্যাংকের লকার নম্বর ১২৮-এ শেখ হাসিনার নামে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের লকার নম্বর ৭৫১/বড়/১৯৬-এ রাখা ছিল ৪ হাজার ৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আর নম্বর ৭৫৩/বড়/২০০-এ ছিল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্দিকের নামে ৪ হাজার ৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার। এসব লাকার তালিকা প্রস্তুত করে শাখার ব্যবস্থাপক জিম্মায় রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই লকারে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা সিদ্দিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ববি ওয়াজেদের স্বর্ণালংকার থাকতে পারে।

এদিকে, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার আরো একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে সিআইসি।

অন্য দিকে, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও তার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল ওই সময় এ দুজনের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্রোকের নির্দেশ দেয়। অপরাধীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এই জব্দ হওয়া লকারগুলো খুলে সম্পদসমূহের তালিকা তৈরি ও তাদের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তদন্ত ও বিচারের কাজে ব্যবহৃত হবে।

গত বছর, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ব্যাংক লকারসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা এ ধরনের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।