০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী সরানোর নির্দেশ দিলেন অভিনন্দনবাণী সহ বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত অপসারণের অভিনন্দনবাহী বিলবোর্ড দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

দুদকের স্বর্ণ জব্দ: শেখ হাসিনার পরিবারের ৮৩২.৫ ভরি স্বর্ণ লকারে

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের দুটি লকার থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি (প্রায় ৯ কেজি ৭১৬ গ্রাম) স্বর্ণসম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই স্বর্ণ জব্দের ঘটনা শনিবার ঘটে, যখন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআর’র কর গোয়েন্দা ও সিআইসির দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই লকার খোলা হয়।

২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা পূবালী ব্যাংকে একটি এবং অগ্রণী ব্যাংকে দুটি লকারের সম্পদ বিবরণী জমা দেন, যেখানে ওই সকল লকারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর পুনঃতদনির জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান আদালতে আবেদন করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তিনটি লকারের তালা খোলা হয়।

পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় এই তিনটি লকার খুলে দেখা যায়, যেখানে তথ্য অনুযায়ী ঢোকানো বস্তু ও সম্পদগুলোর বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। পূবালী ব্যাংকের লকার নম্বর ১২৮-এ শেখ হাসিনার নামে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের লকার নম্বর ৭৫১/বড়/১৯৬-এ রাখা ছিল ৪ হাজার ৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আর নম্বর ৭৫৩/বড়/২০০-এ ছিল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্দিকের নামে ৪ হাজার ৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার। এসব লাকার তালিকা প্রস্তুত করে শাখার ব্যবস্থাপক জিম্মায় রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই লকারে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা সিদ্দিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ববি ওয়াজেদের স্বর্ণালংকার থাকতে পারে।

এদিকে, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার আরো একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে সিআইসি।

অন্য দিকে, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও তার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল ওই সময় এ দুজনের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্রোকের নির্দেশ দেয়। অপরাধীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এই জব্দ হওয়া লকারগুলো খুলে সম্পদসমূহের তালিকা তৈরি ও তাদের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তদন্ত ও বিচারের কাজে ব্যবহৃত হবে।

গত বছর, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ব্যাংক লকারসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা এ ধরনের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী সরানোর নির্দেশ দিলেন অভিনন্দনবাণী সহ বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত অপসারণের

দুদকের স্বর্ণ জব্দ: শেখ হাসিনার পরিবারের ৮৩২.৫ ভরি স্বর্ণ লকারে

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের দুটি লকার থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি (প্রায় ৯ কেজি ৭১৬ গ্রাম) স্বর্ণসম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই স্বর্ণ জব্দের ঘটনা শনিবার ঘটে, যখন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআর’র কর গোয়েন্দা ও সিআইসির দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই লকার খোলা হয়।

২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা পূবালী ব্যাংকে একটি এবং অগ্রণী ব্যাংকে দুটি লকারের সম্পদ বিবরণী জমা দেন, যেখানে ওই সকল লকারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর পুনঃতদনির জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান আদালতে আবেদন করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তিনটি লকারের তালা খোলা হয়।

পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় এই তিনটি লকার খুলে দেখা যায়, যেখানে তথ্য অনুযায়ী ঢোকানো বস্তু ও সম্পদগুলোর বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। পূবালী ব্যাংকের লকার নম্বর ১২৮-এ শেখ হাসিনার নামে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের লকার নম্বর ৭৫১/বড়/১৯৬-এ রাখা ছিল ৪ হাজার ৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আর নম্বর ৭৫৩/বড়/২০০-এ ছিল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্দিকের নামে ৪ হাজার ৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার। এসব লাকার তালিকা প্রস্তুত করে শাখার ব্যবস্থাপক জিম্মায় রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই লকারে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা সিদ্দিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ববি ওয়াজেদের স্বর্ণালংকার থাকতে পারে।

এদিকে, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার আরো একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে সিআইসি।

অন্য দিকে, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও তার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল ওই সময় এ দুজনের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্রোকের নির্দেশ দেয়। অপরাধীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এই জব্দ হওয়া লকারগুলো খুলে সম্পদসমূহের তালিকা তৈরি ও তাদের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তদন্ত ও বিচারের কাজে ব্যবহৃত হবে।

গত বছর, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ব্যাংক লকারসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা এ ধরনের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।