০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

সব রাজনৈতিক দল একযোগে julho অভ্যুত্থানবিরোধী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলার অঙ্গীকার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই হামলা খুবই পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে বড় কোনো শক্তি জড়িত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন বানচাল করা ও শক্তি প্রদর্শন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, যেখানে একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত, আর এর পেছনে বড় কোনো শক্তি কাজ করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এবং প্রশিক্ষিত শুটার দলে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি এই হামলাকে ‘সিম্বলিক’ উল্লেখ করে বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন ব্যাহত করা এবং নিজেদের শক্তির প্রদর্শনী। উভয় পক্ষের একযোগে এসব অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সব দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সবাই যেন দেশের স্বার্থে একত্রিত হন। তিনি অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দলগুলোর মধ্যে দুর্বলতা এবং দোষারোপের প্রবণতা বেড়েছে। বিরোধীরা সুযোগ নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ পরিত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে সবাই যেন এক হন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার ও প্রশাসনের কিছু অংশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার অপপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ভীতি না থাকলেও, July অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, যদি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকে, তবে নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল হবে।

অন্য আলোচকদের মধ্যে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও ইনকিলাবের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে একজন সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল নির্বাচন পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকল দলকে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সব রাজনৈতিক দল একযোগে julho অভ্যুত্থানবিরোধী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলার অঙ্গীকার

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই হামলা খুবই পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে বড় কোনো শক্তি জড়িত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন বানচাল করা ও শক্তি প্রদর্শন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, যেখানে একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত, আর এর পেছনে বড় কোনো শক্তি কাজ করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এবং প্রশিক্ষিত শুটার দলে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি এই হামলাকে ‘সিম্বলিক’ উল্লেখ করে বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন ব্যাহত করা এবং নিজেদের শক্তির প্রদর্শনী। উভয় পক্ষের একযোগে এসব অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সব দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সবাই যেন দেশের স্বার্থে একত্রিত হন। তিনি অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দলগুলোর মধ্যে দুর্বলতা এবং দোষারোপের প্রবণতা বেড়েছে। বিরোধীরা সুযোগ নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ পরিত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে সবাই যেন এক হন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার ও প্রশাসনের কিছু অংশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার অপপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ভীতি না থাকলেও, July অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, যদি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকে, তবে নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল হবে।

অন্য আলোচকদের মধ্যে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও ইনকিলাবের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে একজন সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল নির্বাচন পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকল দলকে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।