০৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানায়, তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সংকটকে মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বর্তমানে গভীর সংকটে আচ্ছন্ন এবং তাদের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম, যা তার কাছে উদ্বেগের বিষয়।

সামরিক সংঘাত স্থগিত রাখার পেছনে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছেন হামলা স্থগিত রাখার জন্য। তাদের অনুরোধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানি প্রতিনিধিদের আলোচনার টেবিলে এনে একটি স্থায়ী ও গঠনমূলক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করা।

তবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ শিথিল করছে এমন ইঙ্গিত নেই। ট্রাম্প জানিয়েছে যে, ইরানের বন্দরে-America-এর আরোপিত নৌ-অবরোধ আগের মতোই জারি থাকবে। তিনি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সব পরিস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য অবরোধ ও কড়াকড়ি বজায় রেখে ইরানের কাছে কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোই।

বিরতি চলবে যতক্ষণ না তেহরান কোনো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব জমা দেয় এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আলোচনায় যদি একটি অর্থবহ সমাধান না আসে, যুক্তরাষ্ট্র কোন সামরিক ছাড় দিতে রাজি হবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে সময় বাড়ানোর প্রধান কারণটি পাকিস্তানের অনুরোধ এবং বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা।

আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে মনোযোগ দিয়ে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আংশিকভাবে কমার সুযোগ থাকলেও বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকায় ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান নির্ধারিত সময়ে কোনো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসে কি না এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসনে কতটুকু সফলতা পাওয়া যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানায়, তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সংকটকে মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বর্তমানে গভীর সংকটে আচ্ছন্ন এবং তাদের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম, যা তার কাছে উদ্বেগের বিষয়।

সামরিক সংঘাত স্থগিত রাখার পেছনে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছেন হামলা স্থগিত রাখার জন্য। তাদের অনুরোধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানি প্রতিনিধিদের আলোচনার টেবিলে এনে একটি স্থায়ী ও গঠনমূলক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করা।

তবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ শিথিল করছে এমন ইঙ্গিত নেই। ট্রাম্প জানিয়েছে যে, ইরানের বন্দরে-America-এর আরোপিত নৌ-অবরোধ আগের মতোই জারি থাকবে। তিনি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সব পরিস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য অবরোধ ও কড়াকড়ি বজায় রেখে ইরানের কাছে কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোই।

বিরতি চলবে যতক্ষণ না তেহরান কোনো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব জমা দেয় এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আলোচনায় যদি একটি অর্থবহ সমাধান না আসে, যুক্তরাষ্ট্র কোন সামরিক ছাড় দিতে রাজি হবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে সময় বাড়ানোর প্রধান কারণটি পাকিস্তানের অনুরোধ এবং বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা।

আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে মনোযোগ দিয়ে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আংশিকভাবে কমার সুযোগ থাকলেও বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকায় ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান নির্ধারিত সময়ে কোনো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসে কি না এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসনে কতটুকু সফলতা পাওয়া যায়।