০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

বিদেশে বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পেলো

বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফলের বিদেশি বাজারে ক্রমশ চাহিদা বেড়ে চলছে। এর কারণ হিসেবে রয়েছে ফলের মান উন্নয়ন এবং বৈচিত্র্য। এই ধারা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের যথেষ্ট উন্নতি ঘটিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বার্তার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ফল রপ্তানি করে মাত্র ০.৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল। তবে, মাত্র তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭.৫১ মিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় ১১৬ গুণের বেশি বৃদ্ধি। এটি বাংলাদেশের ফল রপ্তানির ব্যাপক উন্নতির প্রতিফলন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ শাখার উপপরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘কাঁঠাল, আনারসসহ নানা জাতের ফলের চাহিদা অনেক দেশের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে ফল কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে।’’

অপর দিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো পরিচালনা বিভাগের প্রধান আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘‘প্রথমত, আমাদের দেশে পর্যাপ্ত বিমান সুবিধা না থাকায় কৃষিপণ্য বাহিত হওয়ার জন্য নির্ভর করতে হয় যাত্রীবাহী বিমানের উপর। ফলে পচনশীল কৃষিপণ্য যেমন শাকসবজি ও ফলপ্রযুক্তির জন্য এর সুবিধা কম। এছাড়া, উন্নত দেশে কৃষিপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটাইজেশন ও গুণগত মান বজায় রাখতে আমাদের বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এর ফলে কৃষকদের আরও সচেতন করে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।’’ তিনি আরও বললেন, “ইপিবি রপ্তানিকারকদের জন্য নানা সুবিধা ও প্রচার করে থাকেন। তবে, নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তুলতে হলে আমাদের এখনই প্রয়োজন উন্নত মানের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি ব্যবস্থার গতি বৃদ্ধি।”

গত দুই বছর বিনিয়োগে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয়ের সূচক কমলেও, বর্তমানে সেই প্রবণতা উল্টো দিকে চলেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে এই আয় ছিল যথাক্রমে ১.০২ এবং ১.১ বিলিয়ন ডলার, যা পরে কিছুটা কমে গিয়ে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। তবে, শেষ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯৮৮.৬২ মিলিয়ন ডলার হয়।

আরো দেখা যায়, বিভিন্ন কৃষিপণ্য যেমন চা, সবজি, তামাক, মসলা, ড্রায়ফুড, তেলবীজ, পানপাতা, উদ্ভিদ চর্বি, চিনিসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, চা থেকে রপ্তানি আয় ৪.১০ মিলিয়ন ডলার, সবজি থেকে ৮১.১২ মিলিয়ন ডলার, তামাকজাত পণ্য থেকে ২৫১.৯৩ মিলিয়ন ডলার, মসলা থেকে ৫৬.৩১ মিলিয়ন ডলার, ড্রায়ফুড থেকে ১৮৬.৬০ মিলিয়ন ডলার এবং তেলবীজ থেকে ২৪.০৬ মিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে। পানপাতার রপ্তানি আয়ও বেড়েছে, যেখানে ২০২০-২১ সালে ৮.০৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪-২৫ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ২১.৪৫ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে, উদ্ভিদচর্বি ও তেল রপ্তানি হয়েছে ১১৮.০৪ মিলিয়ন ডলার আর চালের রপ্তানি হয়েছে ২০.৮২ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রায় ১৩০টির বেশি দেশে রপ্তানি হয়। এসব দেশে সর্বোচ্চ রপ্তানি হয় ভারতে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ২১১.৪৭ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বেশ চাহিদা পাচ্ছে। বিশেষ করে ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চেঙুদ শিল্প, কানাডাসহ অন্যান্য দেশে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

বিদেশে বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পেলো

প্রকাশিতঃ ০৬:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফলের বিদেশি বাজারে ক্রমশ চাহিদা বেড়ে চলছে। এর কারণ হিসেবে রয়েছে ফলের মান উন্নয়ন এবং বৈচিত্র্য। এই ধারা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের যথেষ্ট উন্নতি ঘটিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বার্তার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ফল রপ্তানি করে মাত্র ০.৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল। তবে, মাত্র তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭.৫১ মিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় ১১৬ গুণের বেশি বৃদ্ধি। এটি বাংলাদেশের ফল রপ্তানির ব্যাপক উন্নতির প্রতিফলন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ শাখার উপপরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘কাঁঠাল, আনারসসহ নানা জাতের ফলের চাহিদা অনেক দেশের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে ফল কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে।’’

অপর দিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো পরিচালনা বিভাগের প্রধান আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘‘প্রথমত, আমাদের দেশে পর্যাপ্ত বিমান সুবিধা না থাকায় কৃষিপণ্য বাহিত হওয়ার জন্য নির্ভর করতে হয় যাত্রীবাহী বিমানের উপর। ফলে পচনশীল কৃষিপণ্য যেমন শাকসবজি ও ফলপ্রযুক্তির জন্য এর সুবিধা কম। এছাড়া, উন্নত দেশে কৃষিপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটাইজেশন ও গুণগত মান বজায় রাখতে আমাদের বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এর ফলে কৃষকদের আরও সচেতন করে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।’’ তিনি আরও বললেন, “ইপিবি রপ্তানিকারকদের জন্য নানা সুবিধা ও প্রচার করে থাকেন। তবে, নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তুলতে হলে আমাদের এখনই প্রয়োজন উন্নত মানের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি ব্যবস্থার গতি বৃদ্ধি।”

গত দুই বছর বিনিয়োগে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয়ের সূচক কমলেও, বর্তমানে সেই প্রবণতা উল্টো দিকে চলেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে এই আয় ছিল যথাক্রমে ১.০২ এবং ১.১ বিলিয়ন ডলার, যা পরে কিছুটা কমে গিয়ে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। তবে, শেষ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯৮৮.৬২ মিলিয়ন ডলার হয়।

আরো দেখা যায়, বিভিন্ন কৃষিপণ্য যেমন চা, সবজি, তামাক, মসলা, ড্রায়ফুড, তেলবীজ, পানপাতা, উদ্ভিদ চর্বি, চিনিসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, চা থেকে রপ্তানি আয় ৪.১০ মিলিয়ন ডলার, সবজি থেকে ৮১.১২ মিলিয়ন ডলার, তামাকজাত পণ্য থেকে ২৫১.৯৩ মিলিয়ন ডলার, মসলা থেকে ৫৬.৩১ মিলিয়ন ডলার, ড্রায়ফুড থেকে ১৮৬.৬০ মিলিয়ন ডলার এবং তেলবীজ থেকে ২৪.০৬ মিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে। পানপাতার রপ্তানি আয়ও বেড়েছে, যেখানে ২০২০-২১ সালে ৮.০৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪-২৫ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ২১.৪৫ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে, উদ্ভিদচর্বি ও তেল রপ্তানি হয়েছে ১১৮.০৪ মিলিয়ন ডলার আর চালের রপ্তানি হয়েছে ২০.৮২ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রায় ১৩০টির বেশি দেশে রপ্তানি হয়। এসব দেশে সর্বোচ্চ রপ্তানি হয় ভারতে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ২১১.৪৭ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বেশ চাহিদা পাচ্ছে। বিশেষ করে ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চেঙুদ শিল্প, কানাডাসহ অন্যান্য দেশে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।