০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

আকাশছোঁয়া স্বর্ণের দাম: ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নতুন রেকর্ড

বিশ্ববাজারের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আবারও আকাশছোঁয়া হয়েছে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যার ফলে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) এক ভরি এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। এটি সহসা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ৫১০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অলঙ্কার কেনা দুষ্কর করে তুলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সংকটের কারণে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা, যা আগের তুলনায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অলঙ্কারের কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ছাড়াও ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বাজুস জানিয়েছে, এই মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে অর্থাৎ বিক্রয়মূল্যের ওপর সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ছয় শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। এছাড়াও, ডিজাইন ও কারুকাজের ভিন্নতা অনুযায়ী মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটছে। এক লাফে ভরিতে রুপার দাম ৮১৬ টাকা বেড়ে এখন ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা হয়েছে। অন্যান্য মান অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ৮ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ৫ হাজার ২৪৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অলংকারের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য ভাবনায় পড়েছে, কারণ দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট করেছে, এই দামে বিক্রয় করলে সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ছয় শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। মূলত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদার কারণে দেশের বাজারে এই অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ইতিহাসের অন্যন্য রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণ এখন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

আকাশছোঁয়া স্বর্ণের দাম: ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নতুন রেকর্ড

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ববাজারের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আবারও আকাশছোঁয়া হয়েছে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যার ফলে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) এক ভরি এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। এটি সহসা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ৫১০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অলঙ্কার কেনা দুষ্কর করে তুলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সংকটের কারণে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা, যা আগের তুলনায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অলঙ্কারের কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ছাড়াও ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বাজুস জানিয়েছে, এই মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে অর্থাৎ বিক্রয়মূল্যের ওপর সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ছয় শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। এছাড়াও, ডিজাইন ও কারুকাজের ভিন্নতা অনুযায়ী মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটছে। এক লাফে ভরিতে রুপার দাম ৮১৬ টাকা বেড়ে এখন ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা হয়েছে। অন্যান্য মান অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ৮ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ৫ হাজার ২৪৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অলংকারের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য ভাবনায় পড়েছে, কারণ দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট করেছে, এই দামে বিক্রয় করলে সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ছয় শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। মূলত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদার কারণে দেশের বাজারে এই অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ইতিহাসের অন্যন্য রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণ এখন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে চলছে।