০৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশ ব্যাংক উত্তরা ফাইন্যান্সের পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠন করল

অর্থনৈতিক সংকটে পড়া উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে নতুন সংগঠন গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ অনিয়মের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০২৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন পরিচালনা পর্ষদে মোট পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন। নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মুখরত হোসেন, যিনি স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন— মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির এবং মো. রফিকুল ইসলাম (এফসিএস)। পাশাপাশি, মো. মাহবুব আলমকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। আশা করা হচ্ছে, নতুন পরিচালনা পর্ষদ উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে, তত্ত্বাবধানে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ২০১৯ সালের পর থেকে তা প্রকাশ করছে না। এছাড়া, গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির সুদ বাবদ লোকসান হয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ওই বছর পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সব ধরনের ব্যয় বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিশোধকৃত করসহ নিট লোকসান হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত কোম্পানির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে, যোগ্য মূলধন ঘাটতি ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ভিত্তিক প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি ছিল ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই ভয়াবহ আর্থিক দুর্বলতা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্টি হয়েছে, যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর পদক্ষেপ নিল। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীরা স্বার্থ রক্ষা পাবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

বাংলাদেশ ব্যাংক উত্তরা ফাইন্যান্সের পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠন করল

প্রকাশিতঃ ১২:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকটে পড়া উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে নতুন সংগঠন গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ অনিয়মের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০২৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন পরিচালনা পর্ষদে মোট পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন। নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মুখরত হোসেন, যিনি স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন— মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির এবং মো. রফিকুল ইসলাম (এফসিএস)। পাশাপাশি, মো. মাহবুব আলমকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। আশা করা হচ্ছে, নতুন পরিচালনা পর্ষদ উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে, তত্ত্বাবধানে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ২০১৯ সালের পর থেকে তা প্রকাশ করছে না। এছাড়া, গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির সুদ বাবদ লোকসান হয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ওই বছর পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সব ধরনের ব্যয় বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিশোধকৃত করসহ নিট লোকসান হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত কোম্পানির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে, যোগ্য মূলধন ঘাটতি ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ভিত্তিক প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি ছিল ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই ভয়াবহ আর্থিক দুর্বলতা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্টি হয়েছে, যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর পদক্ষেপ নিল। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীরা স্বার্থ রক্ষা পাবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।