০৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

বগুড়ায় মাটিডালীতে ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা

বগুড়া শহরের মাটিডালী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাম ফাহিম হাসান (১৯)। তিনি বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ফাহিম মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাহিম মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় নামের এক যুবক হঠাৎ তার ওপর হামলা করে। হামলাকারী তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে বারোটার দিকে ফাহিমের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত তনয় অনেক দিন ধরেই ফাহিমের পরিবারের সঙ্গে বৈরী; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তনয় ফাহিমের বোনকে বিয়ে করার চেষ্টা করছিল এবং পরিবার রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে দফায় দফায় বিবাদ ও ব্যক্তিগত অশান্তি লেগে ছিল। নিহতের নিকটাত্মীয় মো. সেতু মিয়া জানান, ‘‘এর আগে তনয় আমাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তখনও হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত ছিল।’’ পরিবার ও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত শত্রুতার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘এই দমনাত্মক, বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি — ফাঁসি — দেওয়া হোক।’’

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযুক্ত তনয় বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের অনুপস্থিতিতে বা আরও তথ্যের জন্য পুলিশ ঘটনার পরিসংখ্যান ও ঘটনার সূত্রাবলী ক্রমাগত যাচাই করছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি

বগুড়ায় মাটিডালীতে ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিতঃ ০৩:২২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়া শহরের মাটিডালী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাম ফাহিম হাসান (১৯)। তিনি বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ফাহিম মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাহিম মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় নামের এক যুবক হঠাৎ তার ওপর হামলা করে। হামলাকারী তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে বারোটার দিকে ফাহিমের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত তনয় অনেক দিন ধরেই ফাহিমের পরিবারের সঙ্গে বৈরী; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তনয় ফাহিমের বোনকে বিয়ে করার চেষ্টা করছিল এবং পরিবার রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে দফায় দফায় বিবাদ ও ব্যক্তিগত অশান্তি লেগে ছিল। নিহতের নিকটাত্মীয় মো. সেতু মিয়া জানান, ‘‘এর আগে তনয় আমাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তখনও হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত ছিল।’’ পরিবার ও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত শত্রুতার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘এই দমনাত্মক, বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি — ফাঁসি — দেওয়া হোক।’’

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযুক্ত তনয় বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের অনুপস্থিতিতে বা আরও তথ্যের জন্য পুলিশ ঘটনার পরিসংখ্যান ও ঘটনার সূত্রাবলী ক্রমাগত যাচাই করছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।