১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নির্বাচন কমিশন গেজেটে ত্রয়োদশ সংসদের ২৯৭ নির্বাচিতের নাম নবীন—প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবে বিএনপি জাতিসংঘ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় অভিনন্দন, পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস আগামী সোমবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ চূড়ান্ত প্রধান উপদেষ্টা তাঁর আগের পেশায় ফিরে যাবেন: আলী রীয়াজ শুক্রবারের ছুটি শেষ, ঢাকায় ফিরছেন মানুষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রীরা শপথ পাঠ করাবেন তারেক রহমান ও বিএনপিকে কমনওয়েলথ মহাসচিবের শুভেচ্ছা সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও পাওয়া সুযোগ-সুবিধা ৩-৪ দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রিদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। আগের সময়ে এই মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা ও আবেদনের ভিত্তিতে সরকারের সিদ্ধান্ত এই সময় বাড়ানোর পক্ষে দেখা গেছে।

গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি প্রতিষ্ঠানকে ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল; এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পূর্ণরূপে রপ্তানি সম্পন্ন করেছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য কমপক্ষে ১.৬০ মার্কিন ডলার হতে হবে। বর্তমান বিনিময় হার ধরলে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে) তা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি প্রায় ১৯৫ টাকার সমান হবে।

শর্ত অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল কোনোভাবে রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজে ওঠার পর প্রয়োজনীয় সব রপ্তানি কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে অহস্তান্তরযোগ্য; অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের প্রতিনিধির মাধ্যমে না করে অন্য কাউকে সাব-কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে দিয়ে রপ্তানি করাতে পারবে না।

রপ্তানি নীতির প্রশিক্ষণে সাধারণ চাল বিদেশে পাঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। দেশের বার্ষিক সুগন্ধি চাল উৎপাদন প্রায় ১৮০-২০০ হাজার টন নয়, বরং প্রায় ১৮০-২০০ হাজার মেট্রিক টন নয়—এখানে সরকারী তথ্যে বলা হয়েছে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাষ হয়; তদবিষয়ে প্রকাশিত সংখ্যা অনুসারে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, কিন্তু এর তুলনায় বিদেশে রপ্তানি মাত্র প্রায় ১০ হাজার টন। রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় ছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার; পরবর্তীতে রপ্তানি হ্রাস পায় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের চিনিগুড়া, কালিজিরা, কাটারিভোগের মতো সুগন্ধি চাল বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে; যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে এ রপ্তানি পৌঁছেছে। রপ্তানি প্রক্রিয়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তদারকির আওতায় সম্পন্ন হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশনা রয়েছে।

রপ্তানিকারকদের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পেলে সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয় না। এবার মেয়াদ বৃদ্ধি হওয়ায় ৬১টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান তাদের কোটা অনুযায়ী পুনরায় সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ পাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নবীন—প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবে বিএনপি

সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। আগের সময়ে এই মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা ও আবেদনের ভিত্তিতে সরকারের সিদ্ধান্ত এই সময় বাড়ানোর পক্ষে দেখা গেছে।

গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি প্রতিষ্ঠানকে ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল; এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পূর্ণরূপে রপ্তানি সম্পন্ন করেছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য কমপক্ষে ১.৬০ মার্কিন ডলার হতে হবে। বর্তমান বিনিময় হার ধরলে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে) তা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি প্রায় ১৯৫ টাকার সমান হবে।

শর্ত অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল কোনোভাবে রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজে ওঠার পর প্রয়োজনীয় সব রপ্তানি কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে অহস্তান্তরযোগ্য; অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের প্রতিনিধির মাধ্যমে না করে অন্য কাউকে সাব-কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে দিয়ে রপ্তানি করাতে পারবে না।

রপ্তানি নীতির প্রশিক্ষণে সাধারণ চাল বিদেশে পাঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। দেশের বার্ষিক সুগন্ধি চাল উৎপাদন প্রায় ১৮০-২০০ হাজার টন নয়, বরং প্রায় ১৮০-২০০ হাজার মেট্রিক টন নয়—এখানে সরকারী তথ্যে বলা হয়েছে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাষ হয়; তদবিষয়ে প্রকাশিত সংখ্যা অনুসারে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, কিন্তু এর তুলনায় বিদেশে রপ্তানি মাত্র প্রায় ১০ হাজার টন। রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় ছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার; পরবর্তীতে রপ্তানি হ্রাস পায় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের চিনিগুড়া, কালিজিরা, কাটারিভোগের মতো সুগন্ধি চাল বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে; যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে এ রপ্তানি পৌঁছেছে। রপ্তানি প্রক্রিয়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তদারকির আওতায় সম্পন্ন হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশনা রয়েছে।

রপ্তানিকারকদের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পেলে সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয় না। এবার মেয়াদ বৃদ্ধি হওয়ায় ৬১টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান তাদের কোটা অনুযায়ী পুনরায় সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ পাবে।