০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বিরতিতে বাজারে সরবরাহ সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ছুটির সময় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যদিও নির্বাচনকালে পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তবুও ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত পণ্যবাহী গাড়ি আসতে পারেনি। এর ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আমিষের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে সরবরাহের সমস্যা থাকলেও আজ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পাইকারী বাজারের উচ্চমূল্যের প্রভাব খুচরা বিক্রেতাদের উপরও পড়ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানপাটই বন্ধ রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মূল কারণ, ভোট দেওয়ার জন্য বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের যানবাহন এবং বাজারে আগমন কম হয়েছে। সকালে বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম, মুলা ও বেগুনের দাম মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০-৪০ টাকা। এর পাশাপাশি পেঁপে এবং মিষ্টি কুমড়ার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা এবং লাউ ৮০-৯০ টাকা প্রতি পিসে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে, হালি লেবু ৮০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে এখন ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সালাদের জন্য ব্যবহৃত শসা, গাজর এবং টমেটোর দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

মশলা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬০ টাকা, যা আগেই ছিল ৫০ টাকা। আলুর দাম এখন কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই রকম অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ুলিশে ২৮০-৩২০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের শিং মাছ ৬৫০-৭৫০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি দেখা গেছে।

আমিষের বাজারে, ব্রয়লার মুরগির দাম দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৮০-১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি এখন ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় ৩০০ টাকার নিচে। গরুর মাংসের দামও কিছুটা বাড়তি হয়ে এখন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত থাকায় প্রতি ডজন ডিমের দাম ১২০ টাকা, এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বিরতিতে বাজারে সরবরাহ সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ছুটির সময় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যদিও নির্বাচনকালে পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তবুও ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত পণ্যবাহী গাড়ি আসতে পারেনি। এর ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আমিষের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে সরবরাহের সমস্যা থাকলেও আজ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পাইকারী বাজারের উচ্চমূল্যের প্রভাব খুচরা বিক্রেতাদের উপরও পড়ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানপাটই বন্ধ রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মূল কারণ, ভোট দেওয়ার জন্য বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের যানবাহন এবং বাজারে আগমন কম হয়েছে। সকালে বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম, মুলা ও বেগুনের দাম মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০-৪০ টাকা। এর পাশাপাশি পেঁপে এবং মিষ্টি কুমড়ার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা এবং লাউ ৮০-৯০ টাকা প্রতি পিসে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে, হালি লেবু ৮০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে এখন ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সালাদের জন্য ব্যবহৃত শসা, গাজর এবং টমেটোর দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

মশলা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬০ টাকা, যা আগেই ছিল ৫০ টাকা। আলুর দাম এখন কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই রকম অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ুলিশে ২৮০-৩২০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের শিং মাছ ৬৫০-৭৫০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি দেখা গেছে।

আমিষের বাজারে, ব্রয়লার মুরগির দাম দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৮০-১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি এখন ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় ৩০০ টাকার নিচে। গরুর মাংসের দামও কিছুটা বাড়তি হয়ে এখন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত থাকায় প্রতি ডজন ডিমের দাম ১২০ টাকা, এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।