০১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী

টি-টোয়েন্টিতে ভুল হলেই ফের ওঠা কঠিন: রশিদ খান

গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আলোচনায় না থেকে অল্পমেয়াদে বিদায় নেয়। ‘গ্রুপ অব ডেথ’–এ পড়ায় শুরু থেকেই তাদের পথ কঠিন ছিল এবং নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয় বিশ্বকাপ যাত্রাকে ত্বরান্বিতভাবে শেষ করে দিল।

প্রথম দুই ম্যাচ হারের ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো আফগান পরিচিত শিবিরের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত লড়াই করে শেষে হার মেনে নেওয়া তাদের জন্য ছিল এক বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

এই অচিরাচরিত বিদায়ের পর অধিনায়ক রশিদ খান আক্ষেপ ব্যক্ত করে বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিবেশ এমন যে এখানে ভুলের কোনো ছাড় নেই। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে একটি সামান্য ত্রুটিও ম্যাচের আজকের বাঁক ঘোরিয়ে দিতে পারে, এবং একবার পথ হারালে তা সহজে ফেরানো যায় না। তিনি যোগ করেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দু’টি জায়ান্টের বিরুদ্ধে নামা তাদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে বিরাট চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সূচি, সঙ্কীর্ণ সময় এবং মাঠের ছোটখাটো ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটিয়েছে।

রশিদ সতীর্থদের পাশাপাশি নিজেরাও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় হয়ে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এমন ক্ষত থেকে ফিরে আসতে হলে কড়া কাজ, পরিকল্পনা ও তরুণদের ওপর বেশি নজর দিতে হবে।

অফ-ফিল্ডও বড় পরিবর্তন ঘটেছে — দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রটের অধীনে আফগানিস্তানের উত্থান নজরকাড়া ছিল; কেবল কৌশলগতভাবে নয়, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা গঠনে তাঁরও বড় ভূমিকা ছিল। রশিদ বলেন, ট্রটের চলে যাওয়া আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে এবং তা পূরণ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হবে।

বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে—নেতৃত্বের পরীক্ষা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া ও তরুণদের গড়ার দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। সামনে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

আফগান দলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: নেতৃত্বে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বড় মঞ্চে তাদের বাস্তব সামর্থ্য আবার প্রমান করা। আপাতত এই অকাল বিদায়কে তারা এক বড় শিক্ষা হিসেবে নেবে এবং ভবিষ্যতে ফিরতে আরও শক্ত সঙ্কল্প নিয়ে মাঠে নামবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার

টি-টোয়েন্টিতে ভুল হলেই ফের ওঠা কঠিন: রশিদ খান

প্রকাশিতঃ ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আলোচনায় না থেকে অল্পমেয়াদে বিদায় নেয়। ‘গ্রুপ অব ডেথ’–এ পড়ায় শুরু থেকেই তাদের পথ কঠিন ছিল এবং নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয় বিশ্বকাপ যাত্রাকে ত্বরান্বিতভাবে শেষ করে দিল।

প্রথম দুই ম্যাচ হারের ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো আফগান পরিচিত শিবিরের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত লড়াই করে শেষে হার মেনে নেওয়া তাদের জন্য ছিল এক বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

এই অচিরাচরিত বিদায়ের পর অধিনায়ক রশিদ খান আক্ষেপ ব্যক্ত করে বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিবেশ এমন যে এখানে ভুলের কোনো ছাড় নেই। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে একটি সামান্য ত্রুটিও ম্যাচের আজকের বাঁক ঘোরিয়ে দিতে পারে, এবং একবার পথ হারালে তা সহজে ফেরানো যায় না। তিনি যোগ করেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দু’টি জায়ান্টের বিরুদ্ধে নামা তাদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে বিরাট চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সূচি, সঙ্কীর্ণ সময় এবং মাঠের ছোটখাটো ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটিয়েছে।

রশিদ সতীর্থদের পাশাপাশি নিজেরাও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় হয়ে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এমন ক্ষত থেকে ফিরে আসতে হলে কড়া কাজ, পরিকল্পনা ও তরুণদের ওপর বেশি নজর দিতে হবে।

অফ-ফিল্ডও বড় পরিবর্তন ঘটেছে — দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রটের অধীনে আফগানিস্তানের উত্থান নজরকাড়া ছিল; কেবল কৌশলগতভাবে নয়, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা গঠনে তাঁরও বড় ভূমিকা ছিল। রশিদ বলেন, ট্রটের চলে যাওয়া আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে এবং তা পূরণ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হবে।

বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে—নেতৃত্বের পরীক্ষা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া ও তরুণদের গড়ার দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। সামনে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

আফগান দলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: নেতৃত্বে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বড় মঞ্চে তাদের বাস্তব সামর্থ্য আবার প্রমান করা। আপাতত এই অকাল বিদায়কে তারা এক বড় শিক্ষা হিসেবে নেবে এবং ভবিষ্যতে ফিরতে আরও শক্ত সঙ্কল্প নিয়ে মাঠে নামবে।