০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

ড. ইউনূস লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন

নবনির্বাচিত সরকারের শপথের পর বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন থেকে কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তরের একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দেখা গেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাবান লোক最近 সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজ পাসপোর্ট জ্মা করেছিলেন বলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ বিদায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি শক্তিশালী সংকেত দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগেই তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কালে প্রদত্ত বিশেষ সুবিধাসমূহ পদের মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক। यही আইনগত বাধ্যবাধকতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত মূল ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং খাদ্য ও ভূমি বিষয়ক উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

অন্যরা যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য ছিলেন মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শপথান্তরের পর দ্রুত এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারা এখনো পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি তাদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যে সকলকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রায় ১৮ মাস পর নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করার এই সময়কে কাজে লাগিয়ে বিদায়ী উপদেষ্টাদের পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

ড. ইউনূস লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন

প্রকাশিতঃ ১১:৪২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবনির্বাচিত সরকারের শপথের পর বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন থেকে কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তরের একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দেখা গেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাবান লোক最近 সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজ পাসপোর্ট জ্মা করেছিলেন বলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ বিদায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি শক্তিশালী সংকেত দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগেই তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কালে প্রদত্ত বিশেষ সুবিধাসমূহ পদের মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক। यही আইনগত বাধ্যবাধকতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত মূল ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং খাদ্য ও ভূমি বিষয়ক উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

অন্যরা যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য ছিলেন মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শপথান্তরের পর দ্রুত এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারা এখনো পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি তাদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যে সকলকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রায় ১৮ মাস পর নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করার এই সময়কে কাজে লাগিয়ে বিদায়ী উপদেষ্টাদের পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছিয়েছে।