০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বড় উত্থান

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমার সঙ্গে চলমান আলোচনা আটকে থাকার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে দাম আবারও চড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সমস্ত প্রধান সূচকে তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.২৪ ডলার (প্রায় ০.৩ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়ে ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময় মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ব্যারেলপ্রতি ০.২৮ ডলার (প্রায় ০.৪ শতাংশ) বেড়ে ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ৩০ জানুয়ারির পরে সর্বোচ্চ পর্যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাই মূলত এই অস্থিরতার পিছনে কাজ করছে। বিশেষত হরমুজ কটোর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জেলাপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পানগে পারাপার হয়—কেননা হরমুজে কোনো বড় বাধা সৃষ্টি হলে সরবরাহ চেইনে সঙ্কট তৈরি হতে বাধ্য।

কয়েক দিন আগে ইরান কিছু সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে ইরান ওই অঞ্চলে নতুন সামরিক স্থাপনা তৈরি করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই জলসীমায় আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যা উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান পরোক্ষ আলোচনাও বড় কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। হোয়াইট হাউস বলেছে, তেহরান যদি পরবর্তী রাউন্ডের জন্য বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ফিরে আসে তবে আলোচনা চলতে পারে, কিন্তু বর্তমানে বিরাজমান অবিশ্বাস বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়ার মত, যদিও উত্তেজনা আছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাজারে তেলের অতিরিক্ত বৃদ্ধিকে সমর্থন করবেন না কারণ তা আমেরিকান অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এজন্য কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা সম্ভবত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি হবে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত এবং জেনেভায় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়াও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুতে হঠাৎ পতন—যেখানে পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও ডিস্টিলেট মজুত হ্রাস পেয়েছে—তেলদামের বাড়তে সহায়ক হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছেন, যার উপর ভিত্তি করে দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।

সরবরাহ-চাহিদার এই তীব্র অমিল বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ উন্মোচন করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যদি দ্রুত স্থিতিশীল না হয়, তেলের দামে উঠা-নামা ও বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বড় উত্থান

প্রকাশিতঃ ০৩:২৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমার সঙ্গে চলমান আলোচনা আটকে থাকার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে দাম আবারও চড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সমস্ত প্রধান সূচকে তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.২৪ ডলার (প্রায় ০.৩ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়ে ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময় মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ব্যারেলপ্রতি ০.২৮ ডলার (প্রায় ০.৪ শতাংশ) বেড়ে ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ৩০ জানুয়ারির পরে সর্বোচ্চ পর্যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাই মূলত এই অস্থিরতার পিছনে কাজ করছে। বিশেষত হরমুজ কটোর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জেলাপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পানগে পারাপার হয়—কেননা হরমুজে কোনো বড় বাধা সৃষ্টি হলে সরবরাহ চেইনে সঙ্কট তৈরি হতে বাধ্য।

কয়েক দিন আগে ইরান কিছু সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে ইরান ওই অঞ্চলে নতুন সামরিক স্থাপনা তৈরি করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই জলসীমায় আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যা উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান পরোক্ষ আলোচনাও বড় কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। হোয়াইট হাউস বলেছে, তেহরান যদি পরবর্তী রাউন্ডের জন্য বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ফিরে আসে তবে আলোচনা চলতে পারে, কিন্তু বর্তমানে বিরাজমান অবিশ্বাস বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়ার মত, যদিও উত্তেজনা আছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাজারে তেলের অতিরিক্ত বৃদ্ধিকে সমর্থন করবেন না কারণ তা আমেরিকান অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এজন্য কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা সম্ভবত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি হবে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত এবং জেনেভায় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়াও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুতে হঠাৎ পতন—যেখানে পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও ডিস্টিলেট মজুত হ্রাস পেয়েছে—তেলদামের বাড়তে সহায়ক হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছেন, যার উপর ভিত্তি করে দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।

সরবরাহ-চাহিদার এই তীব্র অমিল বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ উন্মোচন করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যদি দ্রুত স্থিতিশীল না হয়, তেলের দামে উঠা-নামা ও বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।