০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক বহাল রেখে আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা বহাল রাখার পরিকল্পনা করছে, তবে আমদানির প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো সহজ করে ব্যবসায়ীদের কাজ কমজোরা করার চিন্তা চলছে। মঙ্গলবার সিএনবিসির এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই তথ্য জানান।

গ্রিয়ার বলছেন, শুল্কের হার পরিবর্তন করার কথা নয়; মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমদানিকারকদের ওপর থাকা কাগজপত্র ও নিয়ম-কানুনে থাকা জটিলতা কমানো, যাতে তারা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ না করে দ্রুত এবং কম ব্যয়ে তাদের ব্যবসা চালাতে পারে। বর্তমানে জটিল শুল্ক-বিধি মেনে চলতে গেলে কোম্পানিগুলোকে সময়, অর্থ ও মানবসম্পদ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে—এই পরিস্থিতি ব্যবসার উৎপাদনশীলতা ক্ষুন্ন করছে, এমনটাই তাঁর ব্যাখ্যা।

তিনি আরও জানান, সরকার চাইছে ব্যবসায়ীরা দাপ্তরিক কাজের গিঁজে এতটাই আটকে না পড়ুক যে তাদের মূল উৎপাদন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য শুল্ক প্রয়োগের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, সরল ও দ্রুতগতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ কাগজপত্রের সহজীকরণ, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বা অনলাইন প্রক্রিয়া বাড়ানো—এসবই হতে পারে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানানো হয়নি।

গ্রিয়ার এই নীতি সমগ্রভাবে সফল উল্লেখ করে বলেন, শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্প নতুন করে প্রাণ ফেরেছে এবং সেগুলো সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, কঠোর শুল্ক নীতির কারণে অন্য দেশগুলোও তাদের অযাচিত বাণিজ্যপ্রতিবন্ধকতা কমাতে বাধ্য হয়েছেন, ফলস্বরূপ দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার রপ্তানি সক্ষমতা বাড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলেছে। এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা অটুট রেখে প্রয়োগ প্রণালীতে পরিবর্তন আনতে চায়।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত বছর চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার প্রভাব মোকাবিলা ও আমেরিকান শিল্পকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে এই ধাতু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সমাপ্ত পণ্যের ওপরও শুল্কের পরিধি বাড়িয়ে দেওয়া হলে আমদানিকৃত পণ্যের কাঁচামাল উৎস ও অনুপাত নির্ণয় করে সঠিক শুল্ক হিসাব করা কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য এখন সেই জটিলতা দূর করে একটি ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে আমদানির গতি বাড়ে, খরচ কমে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীল খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে—এমনটাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, শুল্ক বজায় রেখে প্রশাসনিক সরণী সহজ করা তাদের প্রধান কৌশল হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক বহাল রেখে আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা

প্রকাশিতঃ ০৩:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা বহাল রাখার পরিকল্পনা করছে, তবে আমদানির প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো সহজ করে ব্যবসায়ীদের কাজ কমজোরা করার চিন্তা চলছে। মঙ্গলবার সিএনবিসির এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই তথ্য জানান।

গ্রিয়ার বলছেন, শুল্কের হার পরিবর্তন করার কথা নয়; মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমদানিকারকদের ওপর থাকা কাগজপত্র ও নিয়ম-কানুনে থাকা জটিলতা কমানো, যাতে তারা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ না করে দ্রুত এবং কম ব্যয়ে তাদের ব্যবসা চালাতে পারে। বর্তমানে জটিল শুল্ক-বিধি মেনে চলতে গেলে কোম্পানিগুলোকে সময়, অর্থ ও মানবসম্পদ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে—এই পরিস্থিতি ব্যবসার উৎপাদনশীলতা ক্ষুন্ন করছে, এমনটাই তাঁর ব্যাখ্যা।

তিনি আরও জানান, সরকার চাইছে ব্যবসায়ীরা দাপ্তরিক কাজের গিঁজে এতটাই আটকে না পড়ুক যে তাদের মূল উৎপাদন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য শুল্ক প্রয়োগের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, সরল ও দ্রুতগতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ কাগজপত্রের সহজীকরণ, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বা অনলাইন প্রক্রিয়া বাড়ানো—এসবই হতে পারে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানানো হয়নি।

গ্রিয়ার এই নীতি সমগ্রভাবে সফল উল্লেখ করে বলেন, শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্প নতুন করে প্রাণ ফেরেছে এবং সেগুলো সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, কঠোর শুল্ক নীতির কারণে অন্য দেশগুলোও তাদের অযাচিত বাণিজ্যপ্রতিবন্ধকতা কমাতে বাধ্য হয়েছেন, ফলস্বরূপ দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার রপ্তানি সক্ষমতা বাড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলেছে। এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা অটুট রেখে প্রয়োগ প্রণালীতে পরিবর্তন আনতে চায়।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত বছর চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার প্রভাব মোকাবিলা ও আমেরিকান শিল্পকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে এই ধাতু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সমাপ্ত পণ্যের ওপরও শুল্কের পরিধি বাড়িয়ে দেওয়া হলে আমদানিকৃত পণ্যের কাঁচামাল উৎস ও অনুপাত নির্ণয় করে সঠিক শুল্ক হিসাব করা কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য এখন সেই জটিলতা দূর করে একটি ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে আমদানির গতি বাড়ে, খরচ কমে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীল খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে—এমনটাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, শুল্ক বজায় রেখে প্রশাসনিক সরণী সহজ করা তাদের প্রধান কৌশল হবে।