১০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামফারায় সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৫০ নিহত, বহু নারী-শিশু অপহৃত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুছে গ্রামে চলতি সপ্তাহে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের এক সংঘাতাত্মক হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই আক্রমণ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

মোটরসাইকেল আর হাতে-বহমান অস্ত্র নিয়ে আগত শত শত বন্দুকধারী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে গুলিবর্ষণ করে এবং অগ্নিসংযোগ চালায়। হামলাকারীরা নারী ও শিশুসহ বহু লোককে অপহরণও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। জামফারার স্থানীয় বিধায়ক হামিসু এ ফারু সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পিতভাবে একের পর এক গ্রামে আক্রমণের কথা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই বর্বরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। মৃতভাগীরা বলছেন, হামলার কমপক্ষে এক দিন আগেই প্রায় ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র লোকজন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল এবং সেটি নিয়ে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। তবু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অনেক জীবন বাঁচানো যায়নি।

জামফারা ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র ডাকাত দল ও বিদ্রোহীদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। কয়েকদিন আগে নিগার অঙ্গরাজ্যে পৃথক এক হামলায় আরও ৪৬ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে নিরাপত্তা জটিলতা কমাতে সম্প্রতি প্রায় ১০০ সদস্যের একটি বিশেষ মার্কিন দল নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছে। নাইজেরীয় সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ওই দল সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেবে না; বরং তারা স্থানীয় বাহিনীর প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করবে। বিশেষত ড্রোন ও উন্নত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী চক্রের অবস্থান নির্ণয়ে এ সহায়তার গুরুত্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করার দিকে ইঙ্গিত করে।

তবে বহু এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলছেন—স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা ফিরে আনতে এসব উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না। শোক ও আতঙ্কের মধ্যে এখন পরিবারগুলো আহতদের চিকিৎসা, অপহৃতদের সন্ধান ও ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ত্বরান্বিত করতে চায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জামফারায় সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৫০ নিহত, বহু নারী-শিশু অপহৃত

প্রকাশিতঃ ১১:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুছে গ্রামে চলতি সপ্তাহে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের এক সংঘাতাত্মক হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই আক্রমণ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

মোটরসাইকেল আর হাতে-বহমান অস্ত্র নিয়ে আগত শত শত বন্দুকধারী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে গুলিবর্ষণ করে এবং অগ্নিসংযোগ চালায়। হামলাকারীরা নারী ও শিশুসহ বহু লোককে অপহরণও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। জামফারার স্থানীয় বিধায়ক হামিসু এ ফারু সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পিতভাবে একের পর এক গ্রামে আক্রমণের কথা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই বর্বরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। মৃতভাগীরা বলছেন, হামলার কমপক্ষে এক দিন আগেই প্রায় ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র লোকজন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল এবং সেটি নিয়ে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। তবু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অনেক জীবন বাঁচানো যায়নি।

জামফারা ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র ডাকাত দল ও বিদ্রোহীদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। কয়েকদিন আগে নিগার অঙ্গরাজ্যে পৃথক এক হামলায় আরও ৪৬ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে নিরাপত্তা জটিলতা কমাতে সম্প্রতি প্রায় ১০০ সদস্যের একটি বিশেষ মার্কিন দল নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছে। নাইজেরীয় সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ওই দল সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেবে না; বরং তারা স্থানীয় বাহিনীর প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করবে। বিশেষত ড্রোন ও উন্নত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী চক্রের অবস্থান নির্ণয়ে এ সহায়তার গুরুত্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করার দিকে ইঙ্গিত করে।

তবে বহু এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলছেন—স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা ফিরে আনতে এসব উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না। শোক ও আতঙ্কের মধ্যে এখন পরিবারগুলো আহতদের চিকিৎসা, অপহৃতদের সন্ধান ও ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ত্বরান্বিত করতে চায়।