১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপিতে কারা এগিয়ে?

সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে, রমজানেই এসব আসনের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিএনপির জোটের ভাগে আনুমানিক ৩৭টি আসন পড়তে পারে—এমন ধারণা রয়েছে দলের ভেতর। বর্তমান পরিস্থিতি এবং গণফলের আনুপাতিক হিসাব মিলিয়ে ইসি বলেছে, গত সাধারণ নির্বাচনের ভিত্তিতে বিএনপি ২১১টি আসনে জয়ী হওয়ায় দলটি প্রায় ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে।

এই সম্ভাব্য আসনগুলোতে মনোনয়ন পেয়ে কার্যক্ষেত্রে ঢুকতে এখনই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পুরোনো ও নতুন নেত্রীেরা। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃত্বই মনে করেন, অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে রাস্তায় যারা ছিলেন, তাদের মধ্যেই এবার আসন দাবিদার শীর্ষে থাকবেন। দলের হাইকমান্ডও ব্যালান্স রেখে ত্যাগী ও অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে জায়গা দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন; পাশাপাশি প্রবীণ নেত্রীদেরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন অনেকেই—তাদের মধ্যে কেউ রাজনীতি থেকে সরে গেলেও অনেকে এখনও সক্রিয়।

অগ্রণী তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান; তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মন্ত্রীর ভূমিকাও পালন করেছেন। প্রথম সারির অন্য দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী), মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন-এর কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন।

অন্যান্য নামগুলোও সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ—বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, ড্যাম্সুর নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন—এসব নামও একের পর এক উঠে আসছে।

আরও কয়েকজনের নামও আলোচনায় আছে—মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি নিতাই রায় চৌধুরীর কন্যা নিপুন রায় চৌধুরী; মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আরলি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেতা জেবা আমিন খান। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, চেমন আরা বেগম, কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপাও সংরক্ষিত আসনে সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে উঠেপড়ে লেগেছেন।

নাম ঘোষণার আগে রাজনৈতিক কর্মসূচি, কর্মজীবন এবং স্থানীয় শক্তিকেন্দ্রের সমন্বয় বিবেচনা করে হাইকমান্ড প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা করবে বলে দল সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা আছে; তারা চেষ্টা করবেন ঈদের আগে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়—এ নিয়মানুগ সময়সীমাও এবার কার্যকর হবে।

সব মিলিয়ে সামনের কয়েক সপ্তাহে দলীয় কষাকষি ও হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে; কে হবে আর কাকে বাদ দেয়া হবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপিতে কারা এগিয়ে?

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে, রমজানেই এসব আসনের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিএনপির জোটের ভাগে আনুমানিক ৩৭টি আসন পড়তে পারে—এমন ধারণা রয়েছে দলের ভেতর। বর্তমান পরিস্থিতি এবং গণফলের আনুপাতিক হিসাব মিলিয়ে ইসি বলেছে, গত সাধারণ নির্বাচনের ভিত্তিতে বিএনপি ২১১টি আসনে জয়ী হওয়ায় দলটি প্রায় ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে।

এই সম্ভাব্য আসনগুলোতে মনোনয়ন পেয়ে কার্যক্ষেত্রে ঢুকতে এখনই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পুরোনো ও নতুন নেত্রীেরা। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃত্বই মনে করেন, অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে রাস্তায় যারা ছিলেন, তাদের মধ্যেই এবার আসন দাবিদার শীর্ষে থাকবেন। দলের হাইকমান্ডও ব্যালান্স রেখে ত্যাগী ও অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে জায়গা দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন; পাশাপাশি প্রবীণ নেত্রীদেরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন অনেকেই—তাদের মধ্যে কেউ রাজনীতি থেকে সরে গেলেও অনেকে এখনও সক্রিয়।

অগ্রণী তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান; তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মন্ত্রীর ভূমিকাও পালন করেছেন। প্রথম সারির অন্য দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী), মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন-এর কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন।

অন্যান্য নামগুলোও সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ—বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, ড্যাম্সুর নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন—এসব নামও একের পর এক উঠে আসছে।

আরও কয়েকজনের নামও আলোচনায় আছে—মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি নিতাই রায় চৌধুরীর কন্যা নিপুন রায় চৌধুরী; মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আরলি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেতা জেবা আমিন খান। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, চেমন আরা বেগম, কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপাও সংরক্ষিত আসনে সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে উঠেপড়ে লেগেছেন।

নাম ঘোষণার আগে রাজনৈতিক কর্মসূচি, কর্মজীবন এবং স্থানীয় শক্তিকেন্দ্রের সমন্বয় বিবেচনা করে হাইকমান্ড প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা করবে বলে দল সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা আছে; তারা চেষ্টা করবেন ঈদের আগে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়—এ নিয়মানুগ সময়সীমাও এবার কার্যকর হবে।

সব মিলিয়ে সামনের কয়েক সপ্তাহে দলীয় কষাকষি ও হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে; কে হবে আর কাকে বাদ দেয়া হবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।