ইতিহাদে রোমাঞ্চকর এক সন্ধ্যায় নিউক্যাসলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইতে আর্সেনালের কাছাকাছি এসে পড়ল বর্তমানে শিরোপাধারী ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার রাতে পেপ গার্দিওলার দল জমজমাট এক ফুটবল পরিবেশনায় বিজয় অর্জন করে এবং টেবিলের শীর্ষস্থ আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র দুইতে নামিয়ে আনে। লিগের এই সঙ্কীর্ণ মুহূর্তে কোনো পয়েন্টই অনবদ্য মূল্য বহন করে, ফলে সিটির জয় আর্সেনাল শিবিরের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে দলের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ফল দেয়; ও’রাইলি মাঝমাঠ থেকে ওমর মারমুশের দেওয়া এক পাঠানো বল সুপরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ করে বাঁ পায়ে নিখুঁত শট করে নিক পোপকে পরাস্ত করে সিটিকে এগিয়ে দেন। কিন্তু খুশির সেই মুহূর্ত বেশি স্থায়ী হয়নি—নিউক্যাসল দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ফিরে আসে। সিটির এক দুর্বল ক্লিয়ারেন্স ধরে লুইস হল জোরালো শট নেন, যা সিটির ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার কিপিংকে বেছে নিয়ে জালে জায়।
সমতা ফিরে এলেও সিটির হাল ধরার মনোবল কমেনি। প্রধান আক্রমণভাগের দায়িত্বে থাকা আর্লিং হালান্ড এদিন গোল না করলেও মাঠজুড়ে অপ্রতিম পরিশ্রম দেখান—প্রয়োজন পড়লে নিচে নামতে রাজি হয়ে রক্ষণ সামলান, শট ব্লক ও বল ক্লিয়ার করেন। হালান্ডের সেই শ্রমিকচিত্ত ফুটবলের পুরস্কার আসে ম্যাচের শেষ দিকে: তার মাপা ক্রস থেকে ও’রাইলি নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এটি ও’রাইলির প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারের প্রথম জোড়া গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল কিছু আক্রমণ চালালেও সিটি শক্ত রক্ষণভিত্তিক কৌশল ও সংগঠিত খেলায় লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ম্যাচে প্রতিটি মুহূর্তে কৌশলগত পরিবর্তন আর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই স্পষ্ট ছিল—যা শেষ পর্যন্ত সিটির কাছেই তিন পয়েন্ট রাখে।
এই জয়ের পর ২৭ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৫৬। অন্যদিকে সমান ম্যাচে আর্সেনালের সংগ্রহ ৫৮ পয়েন্ট। আগামী রোববার উত্তর লন্ডন ডার্বি খেলতে মাঠে নামবে আর্সেনাল ও টটেনহ্যাম; ম্যানচেস্টার সিটি এখন সেসব ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে আছে—যদি টটেনহ্যাম আর্সেনাল থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারে, তাহলে সিটির শিরোপা দৌড় আরও সুবিধাজনক অবস্থায় চলে আসবে। এই নাটকীয় লড়াই এখন প্রিমিয়ার লিগ প্রেমীদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























