১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চাঁদাবাজি ২০–৫০ শতাংশ বৃদ্ধি: ডিসিসিআই প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ ধর্মব্যবসায়ী ও জুলুমবাজদের স্থান নেই বাংলাদেশে: ধর্মমন্ত্রী নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে ভাষা ও শহীদ দিবসের এক সঙ্গীতময় পালন নির্বাচনের পর ইসিতে বড় রদবদল, বদলি ১১২ কর্মকর্তা বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী হতে পারেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু

প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ

নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রান্তিক ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সরাসরি জনকেন্দ্রিক সেবা পৌঁছে দিতে দুইটি বড় প্রকল্প নিলো — ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’। সরকার প্রথমে পাইলট হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করছে এবং ধাপে ধাপে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করে দ্রুততম সময়ে স্মার্ট কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক সনাক্ত করা হবে এবং তারা সরাসরি সরকারী সহায়তা পাবে, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

স্মার্ট কৃষক কার্ডে কৃষকদের জন্য কৃষি জ্ঞানের প্রচার, সার-বীজ-কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ, আবহাওয়া ও উৎপাদনের পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্ড বিতরণ দ্রুত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন; প্রথমে পাইলটের মাধ্যমে কাজ শুরু করে ধাপে ধাপে সারাদেশে বাস্তবায়ন করবে সরকার বলেও জানান মন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ড পাইলট ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নির্ধারিত হয়েছে ১০ মার্চ। প্রথমে দুইটি উপজেলায় পাইলট করার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে এই ১৩ এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে জায়গাগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে — বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য হলো হতদরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য কাঠামোবদ্ধ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির টার্গেটিং ত্রুটি ও অর্থ অপচয় কমানো। সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ; ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একত্রিত করে এই ত্রুটি অনেকাংশে কমানো যাবে।

উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করা হবে, তবে আর্থিক তথ্যের অভাব থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। সুবিধাভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর আবশ্যক করা হবে এবং দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।

এছাড়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড স্তরে কমিটি গঠন করা হবে এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুদান-ভিত্তিক সহায়তা ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি প্রদান করা হবে। পরিবারেই নারী-খানা প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডধারী করা হবে; প্রতিষ্ঠানটি বলেছে যে এই কার্ড থাকলেই অন্য কোনো ভাতা পেতে বাধ্যতামূলক শর্ত ভুক্ত হবে না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপযোগী ভাতা ও সুবিধা বজায় থাকবে।

গঠনের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কারিগরি দিক, ডাটাবেজ তৈরি ও বিতরণ পদ্ধতির অগ্রগতি তৎক্ষণাৎ মনিটরিং করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও স্মার্ট কৃষক কার্ড দুটির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের জীবিকা ও সেবা সরাসরি পৌঁছে দেয়া হবে—এর মধ্যে টিসিবি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিটের মতো কার্যক্রম একীভূত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাইলট সফল হলে সময়মতো সারাদেশে কার্যক্রম প্রসারিত করা হবে; নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রস্তুতির গতির ওপর নির্ভর করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ

প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ

প্রকাশিতঃ ০৮:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রান্তিক ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সরাসরি জনকেন্দ্রিক সেবা পৌঁছে দিতে দুইটি বড় প্রকল্প নিলো — ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’। সরকার প্রথমে পাইলট হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করছে এবং ধাপে ধাপে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করে দ্রুততম সময়ে স্মার্ট কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক সনাক্ত করা হবে এবং তারা সরাসরি সরকারী সহায়তা পাবে, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

স্মার্ট কৃষক কার্ডে কৃষকদের জন্য কৃষি জ্ঞানের প্রচার, সার-বীজ-কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ, আবহাওয়া ও উৎপাদনের পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্ড বিতরণ দ্রুত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন; প্রথমে পাইলটের মাধ্যমে কাজ শুরু করে ধাপে ধাপে সারাদেশে বাস্তবায়ন করবে সরকার বলেও জানান মন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ড পাইলট ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নির্ধারিত হয়েছে ১০ মার্চ। প্রথমে দুইটি উপজেলায় পাইলট করার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে এই ১৩ এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে জায়গাগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে — বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য হলো হতদরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য কাঠামোবদ্ধ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির টার্গেটিং ত্রুটি ও অর্থ অপচয় কমানো। সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ; ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একত্রিত করে এই ত্রুটি অনেকাংশে কমানো যাবে।

উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করা হবে, তবে আর্থিক তথ্যের অভাব থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। সুবিধাভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর আবশ্যক করা হবে এবং দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।

এছাড়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড স্তরে কমিটি গঠন করা হবে এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুদান-ভিত্তিক সহায়তা ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি প্রদান করা হবে। পরিবারেই নারী-খানা প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডধারী করা হবে; প্রতিষ্ঠানটি বলেছে যে এই কার্ড থাকলেই অন্য কোনো ভাতা পেতে বাধ্যতামূলক শর্ত ভুক্ত হবে না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপযোগী ভাতা ও সুবিধা বজায় থাকবে।

গঠনের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কারিগরি দিক, ডাটাবেজ তৈরি ও বিতরণ পদ্ধতির অগ্রগতি তৎক্ষণাৎ মনিটরিং করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও স্মার্ট কৃষক কার্ড দুটির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের জীবিকা ও সেবা সরাসরি পৌঁছে দেয়া হবে—এর মধ্যে টিসিবি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিটের মতো কার্যক্রম একীভূত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাইলট সফল হলে সময়মতো সারাদেশে কার্যক্রম প্রসারিত করা হবে; নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রস্তুতির গতির ওপর নির্ভর করবে।