০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কায় যশোর সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স—দলীয় পরিচয় বিবেচনা করব না: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানালেন: ঈদে একটানা সাতদিন ছুটি রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি নয়, সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদের ছুটি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ঘোষণা আমিরাত থেকে ৪০৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়েছে ইউএস-বাংলার দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইট সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাকজমক এড়িয়ে দুইইফতারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পল কাপুর জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে রুট পারমিট বাতিল হবে: সেতুমন্ত্রী পাবনার খালেদ হোসেন পরাগ হলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইনে ৪০ লাখের বেশি আয়কর জমা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের সংক্ষিপ্ত সময়ে বড় অগ্রগতি এসেছে — চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে ৪০ লাখেরও বেশি করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) এনবিআরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছরে ই-রিটার্ন দাখিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে — প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধির খবর জানিয়েছে এনবিআর, যা আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থার প্রতিফলন বলে তারা মনে করছে।

এনবিআর জানিয়েছে, গত ৪ আগস্ট থেকে অনেক শ্রেণির জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি বাদ রয়েছে। এই বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া চালুর পর থেকে প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৪০ হাজার এবং ডিসেম্বরে প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। চলতি মার্চের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন সম্পন্ন করেছেন। তুলনায়, গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দাখিলকারীর মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিতে বেতনভোগীদের অংশ সবচেয়ে বড় — প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাদের বেতনের আয় দেখিয়ে রিটার্ন জমা করেছেন। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা অনেকেই নারীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

রোমাঞ্চকরভাবে, করযোগ্য আয় সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২২ লাখ নাগরিক সচেতনতার স্বাক্ষর হিসেবে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। অন্যদিকে, সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুবিধাগুলো এনবিআর প্রাধান্য দিয়েছে — করদাতারা এখন কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুযোগ পাওয়া যায়। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ইমেইলে ওটিপি নিয়ে সহজে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন। দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল ধরা পড়লে ১৮০ দিনের মধ্যে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।

করদাতাদের সহায়তায় এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্প-ডেস্ক স্থাপন করেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রাখা হয়েছে; পাশাপাশি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়া হচ্ছে। এনবিআর জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে সব করদাতাকে পরলোকে ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রযুক্তির এই দ্রুত প্রয়োগ দেশের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও গতি, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব করবে বলে আশা করছে এনবিআর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কায় যশোর সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইনে ৪০ লাখের বেশি আয়কর জমা

প্রকাশিতঃ ১১:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের সংক্ষিপ্ত সময়ে বড় অগ্রগতি এসেছে — চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে ৪০ লাখেরও বেশি করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) এনবিআরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছরে ই-রিটার্ন দাখিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে — প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধির খবর জানিয়েছে এনবিআর, যা আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থার প্রতিফলন বলে তারা মনে করছে।

এনবিআর জানিয়েছে, গত ৪ আগস্ট থেকে অনেক শ্রেণির জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি বাদ রয়েছে। এই বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া চালুর পর থেকে প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৪০ হাজার এবং ডিসেম্বরে প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। চলতি মার্চের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন সম্পন্ন করেছেন। তুলনায়, গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দাখিলকারীর মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিতে বেতনভোগীদের অংশ সবচেয়ে বড় — প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাদের বেতনের আয় দেখিয়ে রিটার্ন জমা করেছেন। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা অনেকেই নারীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

রোমাঞ্চকরভাবে, করযোগ্য আয় সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২২ লাখ নাগরিক সচেতনতার স্বাক্ষর হিসেবে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। অন্যদিকে, সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুবিধাগুলো এনবিআর প্রাধান্য দিয়েছে — করদাতারা এখন কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুযোগ পাওয়া যায়। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ইমেইলে ওটিপি নিয়ে সহজে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন। দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল ধরা পড়লে ১৮০ দিনের মধ্যে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।

করদাতাদের সহায়তায় এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্প-ডেস্ক স্থাপন করেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রাখা হয়েছে; পাশাপাশি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়া হচ্ছে। এনবিআর জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে সব করদাতাকে পরলোকে ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রযুক্তির এই দ্রুত প্রয়োগ দেশের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও গতি, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব করবে বলে আশা করছে এনবিআর।