০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কায় যশোর সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স—দলীয় পরিচয় বিবেচনা করব না: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানালেন: ঈদে একটানা সাতদিন ছুটি রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি নয়, সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদের ছুটি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ঘোষণা আমিরাত থেকে ৪০৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়েছে ইউএস-বাংলার দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইট সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাকজমক এড়িয়ে দুইইফতারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পল কাপুর জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে রুট পারমিট বাতিল হবে: সেতুমন্ত্রী পাবনার খালেদ হোসেন পরাগ হলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী

বাকৃবির তিন অ্যালামনাই পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)’র তিনজন অ্যালামনাই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পুরস্কার পাচ্ছেন বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম; আর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে সম্মাননাপ্রাপ্ত হচ্ছেন ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী ও ড. এম এ রহিম।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের বিপুল পরিমানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, চিকিৎসা, জনপ্রশাসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ নানা ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের সম্মান জানানোর কথা জানানো হয়।

ড. জহুরুল করিম দীর্ঘকাল ব্যাংকৃবিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এবং ঢাকাস্থ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন, পরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী বাকৃবিতে কৃষি প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি (FMPHT) বিভাগের প্রাক্তন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তার গবেষণা ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধানের উন্নত প্রযুক্তি ও ফসল পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন এবং উদ্যানতত্ত্ব ও বীজসম্পদ সংরক্ষণে তার কাজ দেশীয় কৃষি জগতের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

এই অভিজ্ঞানগুলো দেশের কৃষি গবেষণা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাকৃবির অবদানের নতুন এক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা পুরস্কার তাদের সার্বিক অবদানকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত করেছে, যা কৃষি খাত ও গবেষণার অগ্রগতিতে আরও উৎসাহ যোগাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কায় যশোর সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

বাকৃবির তিন অ্যালামনাই পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬

প্রকাশিতঃ ০৩:২৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)’র তিনজন অ্যালামনাই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পুরস্কার পাচ্ছেন বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম; আর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে সম্মাননাপ্রাপ্ত হচ্ছেন ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী ও ড. এম এ রহিম।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের বিপুল পরিমানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, চিকিৎসা, জনপ্রশাসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ নানা ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের সম্মান জানানোর কথা জানানো হয়।

ড. জহুরুল করিম দীর্ঘকাল ব্যাংকৃবিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এবং ঢাকাস্থ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন, পরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী বাকৃবিতে কৃষি প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি (FMPHT) বিভাগের প্রাক্তন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তার গবেষণা ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধানের উন্নত প্রযুক্তি ও ফসল পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন এবং উদ্যানতত্ত্ব ও বীজসম্পদ সংরক্ষণে তার কাজ দেশীয় কৃষি জগতের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

এই অভিজ্ঞানগুলো দেশের কৃষি গবেষণা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাকৃবির অবদানের নতুন এক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা পুরস্কার তাদের সার্বিক অবদানকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত করেছে, যা কৃষি খাত ও গবেষণার অগ্রগতিতে আরও উৎসাহ যোগাবে।