০৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনার আটকা পড়েছে সমুদ্রে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুটে জাহাজ আটকে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। শত শত পণ্যবাহী জাহাজ এখন সমুদ্রে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনারগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এফটিতথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকা ৪২৫টি কনটেইনারজাহাজের মধ্যে কমপক্ষে ৯০টি পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে। তদ্ব্যতীত, ১০০টিরও বেশি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে মালামাল খালাস বর্তমানে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমায়িত খাদ্য ও গবাদিপশুবাহী জাহাজগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাইয়ের জেবেল আলী ও ওমানের সালালাহ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এশিয়ার দূরবর্তী বন্দরগুলোতেও জট সৃষ্টি হয়েছে। বিস্লেষণ সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যমতে, চারটি জাহাজে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হালাল মাংস ও জীবিত গবাদিপশু পরিবহন করা হচ্ছে। শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্কের চিফ প্রডাক্ট অফিসার জোহান সিগসগার্ড জানান, এই নৌযানগুলোর শেলফ লাইফ কম হওয়ায় হিমায়িত পণ্য নিয়ে তারা বিশেষ উদ্বিগ্ন। বর্তমানে, লাতিন আমেরিকা থেকে আসা এসব পণ্যের জন্য বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে। উপসাগরীয় বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চাপ পড়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস, শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও উত্তর আফ্রিকার তানজিয়া ও আলজেসিরা বন্দরের ওপর। সিঙ্গাপুরে জাহাজ ভিড়ের জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯ দিন থেকে ৬.৫ দিনে। হ্যাপাগ-লয়েডের প্রধান নির্বাহী রলফ হাববেন জ্যানসেন জানিয়েছেন, তারা বিকল্প বন্দরের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসি জানিয়েছে, তারা কনটেইনারগুলোকে নিকটস্থ সুবিধাজনক বন্দরে নামিয়ে দিতে প্রস্তুত। গ্রাহকদের থেকে নিজের খরচে পণ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং অতিরিক্ত ৮০০ ডলার ‘ডেভিয়েশন কস্ট’ দিতে হবে প্রতি কনটেইনারে। সংক্ষিপ্ত আকাশপথ ও সড়কপথের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট এয়ার কার্গোর ১৩ শতাংশ বন্ধ। অনেক বিমান এখন অবতরণ করতে পারছে না। ডিএইচএল শত শত ট্রাক ব্যবহার করে সড়ক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সপ্তাহের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে অন্তত চার সপ্তাহ লাগবে।shiftনবিশ্লেষকেরা বলছেন, ইস্তানবুল হাব সচল থাকায় তুর্কি এয়ারলাইন্স ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে পারে। তবে সার্বিকভাবে, বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচ ও জ্বালানি ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনার আটকা পড়েছে সমুদ্রে

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুটে জাহাজ আটকে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। শত শত পণ্যবাহী জাহাজ এখন সমুদ্রে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনারগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এফটিতথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকা ৪২৫টি কনটেইনারজাহাজের মধ্যে কমপক্ষে ৯০টি পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে। তদ্ব্যতীত, ১০০টিরও বেশি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে মালামাল খালাস বর্তমানে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমায়িত খাদ্য ও গবাদিপশুবাহী জাহাজগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাইয়ের জেবেল আলী ও ওমানের সালালাহ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এশিয়ার দূরবর্তী বন্দরগুলোতেও জট সৃষ্টি হয়েছে। বিস্লেষণ সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যমতে, চারটি জাহাজে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হালাল মাংস ও জীবিত গবাদিপশু পরিবহন করা হচ্ছে। শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্কের চিফ প্রডাক্ট অফিসার জোহান সিগসগার্ড জানান, এই নৌযানগুলোর শেলফ লাইফ কম হওয়ায় হিমায়িত পণ্য নিয়ে তারা বিশেষ উদ্বিগ্ন। বর্তমানে, লাতিন আমেরিকা থেকে আসা এসব পণ্যের জন্য বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে। উপসাগরীয় বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চাপ পড়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস, শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও উত্তর আফ্রিকার তানজিয়া ও আলজেসিরা বন্দরের ওপর। সিঙ্গাপুরে জাহাজ ভিড়ের জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯ দিন থেকে ৬.৫ দিনে। হ্যাপাগ-লয়েডের প্রধান নির্বাহী রলফ হাববেন জ্যানসেন জানিয়েছেন, তারা বিকল্প বন্দরের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসি জানিয়েছে, তারা কনটেইনারগুলোকে নিকটস্থ সুবিধাজনক বন্দরে নামিয়ে দিতে প্রস্তুত। গ্রাহকদের থেকে নিজের খরচে পণ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং অতিরিক্ত ৮০০ ডলার ‘ডেভিয়েশন কস্ট’ দিতে হবে প্রতি কনটেইনারে। সংক্ষিপ্ত আকাশপথ ও সড়কপথের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট এয়ার কার্গোর ১৩ শতাংশ বন্ধ। অনেক বিমান এখন অবতরণ করতে পারছে না। ডিএইচএল শত শত ট্রাক ব্যবহার করে সড়ক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সপ্তাহের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে অন্তত চার সপ্তাহ লাগবে।shiftনবিশ্লেষকেরা বলছেন, ইস্তানবুল হাব সচল থাকায় তুর্কি এয়ারলাইন্স ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে পারে। তবে সার্বিকভাবে, বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচ ও জ্বালানি ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।