০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রাষ্ট্রপতি: সম্মিলিত আন্দোলনেই ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সংসদে খালেদা জিয়া ও বিশিষ্ট দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অভিনন্দন খালেদা জিয়া ও মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনের স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব খালেদা জিয়া ও মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হলেন সংসদের আচরণ নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: চিফ হুইপ সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনও নীতিগত সুযোগ: সিপিডি আত্মসমর্পণকারী কিছু চরমপন্থি ফের সক্রিয়

ঈদবাজারে নেই আগের ভিড়: প্রত্যাশার চেয়ে ধীর কেনাকাটা

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসলেও দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে সেই প্রত্যাশিত কেনাকাটার জোয়ার দেখা যাচ্ছে না। রমজানের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর নামীদামি শপিং মল থেকে শুরু করে আউটলেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বা তৎপরতা আগের মতো নেই। দেশে প্রায় ৫ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস এবং কয়েকশো ব্র্যান্ড উৎসব মৌসুমে বড় অংশের আয় নির্ভর করলেও এবারের বাজারের চিত্র মিশ্র ও খানিকটা হতাশাজনক বলেই ব্যবসায়ীরা বলছেন।

টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই, রঙ বাংলাদেশসহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর নতুন সংগ্রহ থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো ঝটপট কেনাকাটা করছেন না। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে নতুন সরকারের আগমনে বাজারে গত বৈশিষ্ট্য ফিরবে এবং বিক্রি অন্তত গত বছরের তুলনায় ১০–১৫ শতাংশ বেশি হবে। কিন্তু বাস্তবে বেচাকেনায় ভিন্নধারার প্রবণতা দেখা গেছে — কিছু ক্ষেত্রে ভালো বিক্রিও হয়েছে, আবার অনেক অংশে প্রত্যাশামতো সাড়া মেলেনি।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিজ মার্কেট ঘুরে দেখা যায় ক্রেতারা জামাকাপড় দেখছেন, তুলনা করছেন এবং দাম-মান নিয়ে বেশি যত্নশীল। আগের বছরগুলোর মতো মাসের শেষ দিকে যে হটকালে হুড়োহুড়ি থাকত, সে রকম এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। অনেক ক্রেতাই স্থানীয় উষ্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে হালকা সুতি কাপড় বেশি পছন্দ করছেন—শুধু বৈচিত্র্যের জন্য নয়, আর্থিক কারণে ও বলেই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

ফ্যাশন হাউসগুলো এবারের সংগ্রহে আধুনিকতার সঙ্গে দেশি ঐতিহ্যের ফিউশনকে গুরুত্ব দিয়েছে; তবু জায়গাভিত্তিক বিক্রিতে বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোডের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত আউটলেট জানায়, তাদের বিক্রি এখনও আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং বাজার অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্র্যান্ড জানিয়েছে, তাদের বিক্রি গত বছরের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে — মূলত রঙের বৈচিত্র্য ও নিদিষ্ট গ্রাহকপোষকতার কারণে।

পোশাকের ক্ষেত্রে মেয়েদের মধ্যে থ্রি-পিস ও টু-পিসের চাহিদাই শীর্ষে। সিল্ক, খাদি ও বয়েলসহ নানা ধরনের কাপড়ের মধ্যে এবার সুতি পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হচ্ছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি-ও পাজামার জনপ্রিয়তা অটুট।

তবে পাইকারি বাজারের মন্থর গতির প্রভাব সরাসরি খুচরা শোরুম ও আউটলেটে পড়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত গ্রাহকরা দামি কেনা থেকে বিরত থেকে তুলনামূলক বাজেটে ভালো কিছু খোঁজার চেষ্টা করছেন, ফলে একই ক্রেতা বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটা করছেন। ব্যবসায়ী বিশ্লেষকদের মতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ ফ্যাশন সেক্টরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা বেশি সময় বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এই ধীরগতিই এখন বাজারকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। রঙ বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো কিছুটা ভাল বিক্রি করলেও সামগ্রিকভাবে বাজারের চাঙ্গা ভাব ফিরাতে তারা এখনও আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করছেন।

এখন সময়টা শেষ মুহূর্তের ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করছে। আগামী কয়েক দিন যদি সাধারণ মানুষের ভিড় না বাড়ে, তবে উৎসবভিত্তিক এই বড় বাজারে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থাহীনতার ছাপ পড়েছে, তার উত্তরণ অনেকটাই আসন্ন কয়েক দিনের বাজার-চাঞ্চল্যেই নির্ভরশীল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রাষ্ট্রপতি: সম্মিলিত আন্দোলনেই ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন

ঈদবাজারে নেই আগের ভিড়: প্রত্যাশার চেয়ে ধীর কেনাকাটা

প্রকাশিতঃ ০৫:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসলেও দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে সেই প্রত্যাশিত কেনাকাটার জোয়ার দেখা যাচ্ছে না। রমজানের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর নামীদামি শপিং মল থেকে শুরু করে আউটলেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বা তৎপরতা আগের মতো নেই। দেশে প্রায় ৫ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস এবং কয়েকশো ব্র্যান্ড উৎসব মৌসুমে বড় অংশের আয় নির্ভর করলেও এবারের বাজারের চিত্র মিশ্র ও খানিকটা হতাশাজনক বলেই ব্যবসায়ীরা বলছেন।

টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই, রঙ বাংলাদেশসহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর নতুন সংগ্রহ থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো ঝটপট কেনাকাটা করছেন না। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে নতুন সরকারের আগমনে বাজারে গত বৈশিষ্ট্য ফিরবে এবং বিক্রি অন্তত গত বছরের তুলনায় ১০–১৫ শতাংশ বেশি হবে। কিন্তু বাস্তবে বেচাকেনায় ভিন্নধারার প্রবণতা দেখা গেছে — কিছু ক্ষেত্রে ভালো বিক্রিও হয়েছে, আবার অনেক অংশে প্রত্যাশামতো সাড়া মেলেনি।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিজ মার্কেট ঘুরে দেখা যায় ক্রেতারা জামাকাপড় দেখছেন, তুলনা করছেন এবং দাম-মান নিয়ে বেশি যত্নশীল। আগের বছরগুলোর মতো মাসের শেষ দিকে যে হটকালে হুড়োহুড়ি থাকত, সে রকম এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। অনেক ক্রেতাই স্থানীয় উষ্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে হালকা সুতি কাপড় বেশি পছন্দ করছেন—শুধু বৈচিত্র্যের জন্য নয়, আর্থিক কারণে ও বলেই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

ফ্যাশন হাউসগুলো এবারের সংগ্রহে আধুনিকতার সঙ্গে দেশি ঐতিহ্যের ফিউশনকে গুরুত্ব দিয়েছে; তবু জায়গাভিত্তিক বিক্রিতে বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোডের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত আউটলেট জানায়, তাদের বিক্রি এখনও আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং বাজার অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্র্যান্ড জানিয়েছে, তাদের বিক্রি গত বছরের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে — মূলত রঙের বৈচিত্র্য ও নিদিষ্ট গ্রাহকপোষকতার কারণে।

পোশাকের ক্ষেত্রে মেয়েদের মধ্যে থ্রি-পিস ও টু-পিসের চাহিদাই শীর্ষে। সিল্ক, খাদি ও বয়েলসহ নানা ধরনের কাপড়ের মধ্যে এবার সুতি পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হচ্ছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি-ও পাজামার জনপ্রিয়তা অটুট।

তবে পাইকারি বাজারের মন্থর গতির প্রভাব সরাসরি খুচরা শোরুম ও আউটলেটে পড়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত গ্রাহকরা দামি কেনা থেকে বিরত থেকে তুলনামূলক বাজেটে ভালো কিছু খোঁজার চেষ্টা করছেন, ফলে একই ক্রেতা বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটা করছেন। ব্যবসায়ী বিশ্লেষকদের মতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ ফ্যাশন সেক্টরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা বেশি সময় বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এই ধীরগতিই এখন বাজারকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। রঙ বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো কিছুটা ভাল বিক্রি করলেও সামগ্রিকভাবে বাজারের চাঙ্গা ভাব ফিরাতে তারা এখনও আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করছেন।

এখন সময়টা শেষ মুহূর্তের ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করছে। আগামী কয়েক দিন যদি সাধারণ মানুষের ভিড় না বাড়ে, তবে উৎসবভিত্তিক এই বড় বাজারে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থাহীনতার ছাপ পড়েছে, তার উত্তরণ অনেকটাই আসন্ন কয়েক দিনের বাজার-চাঞ্চল্যেই নির্ভরশীল।