০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় আহত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধের ময়দানে এক হামলায় আহত বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সরকারের বরাতে জানানো হয়েছে, তিনি গুরুতরভাবে জখম না হয়ে বর্তমানে নিবিড় নিরাপত্তায় আছেন এবং স্বাস্থ্যের দিক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সূত্রে প্রদত্ত তথ্য উদ্ধৃত করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে বলছেন, আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন। তথাপি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ক্ষতচিহ্ন বা হামলার বিস্তারিত উল্লেখ করেনি।

ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত রবি–বার মোজতবা খামেনিকে ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ওই নির্বাচনের পটভূমিতে ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বাসভবনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর সংবাদ—যা ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার ফল বলে জানানো হয়েছিল। ওই হামলায় খামেনি পরিবার ও কিছু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়।

মোজতবা খামেনি ব্যক্তিগত জীবনে আগে কোনো সরকারি দায়িত্বে যোগদান করেননি বা ভোটে অংশ নেননি; তবু ৫৬ বছর বয়সী তিনি দীর্ঘদিন থেকেই তার বাবার সময়কাল থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাবশালী ছিলেন। বিশেষত ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–র সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নিয়ন্ত্রণ তাকে শক্তিশালী ভূমিকা দিয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি ইসরায়েলের ওপর পাল্টা আক্রমণ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তাঁর অনমনীয় নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলা হচ্ছে, তবু চলমান সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে ঘিরে নিরাপত্তার চাহিদা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের আরও বিবরণ পাওয়া না গেলে ঘটনার বিস্তৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা কষ্টসাধ্য। বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন আসতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় আহত

প্রকাশিতঃ ০৯:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধের ময়দানে এক হামলায় আহত বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সরকারের বরাতে জানানো হয়েছে, তিনি গুরুতরভাবে জখম না হয়ে বর্তমানে নিবিড় নিরাপত্তায় আছেন এবং স্বাস্থ্যের দিক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সূত্রে প্রদত্ত তথ্য উদ্ধৃত করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে বলছেন, আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন। তথাপি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ক্ষতচিহ্ন বা হামলার বিস্তারিত উল্লেখ করেনি।

ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত রবি–বার মোজতবা খামেনিকে ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ওই নির্বাচনের পটভূমিতে ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বাসভবনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর সংবাদ—যা ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার ফল বলে জানানো হয়েছিল। ওই হামলায় খামেনি পরিবার ও কিছু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়।

মোজতবা খামেনি ব্যক্তিগত জীবনে আগে কোনো সরকারি দায়িত্বে যোগদান করেননি বা ভোটে অংশ নেননি; তবু ৫৬ বছর বয়সী তিনি দীর্ঘদিন থেকেই তার বাবার সময়কাল থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাবশালী ছিলেন। বিশেষত ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–র সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নিয়ন্ত্রণ তাকে শক্তিশালী ভূমিকা দিয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি ইসরায়েলের ওপর পাল্টা আক্রমণ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তাঁর অনমনীয় নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলা হচ্ছে, তবু চলমান সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে ঘিরে নিরাপত্তার চাহিদা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের আরও বিবরণ পাওয়া না গেলে ঘটনার বিস্তৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা কষ্টসাধ্য। বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন আসতে পারে।