০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জামিনে মুক্তি: আনিস আলমগীর বললেন—’শুধু অন্যায় নয়, আমার ওপর জুলুম করা হয়েছে’ নোয়াবের নতুন সভাপতি হলেন মতিউর রহমান চৌধুরী সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত সংসদেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মো. আসাদুজ্জামানের ‘শুধু মাধবীর জন্য’ মোড়ক উন্মোচন শীঘ্রই বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু হবে: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কাশিমপুর থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর ২৩-২৫ মার্চ স্মৃতিসৌধে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জ্বালানি পর্যাপ্ত থাকবে: মন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

পোল্ট্রি খাত বাঁচাতে খামারিদের ছয় দফা দাবি

বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা, চারা ও খাদকদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা খামারিদের ভোগান্তি এবং পোল্ট্রি খাতের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরেন।

নেতারা জানান, শেষ কয়েক মাসে উৎপাদন খরচ প্রকটভাবে বেড়ে গেলেও খামারিরা বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি শিল্প এবং এতে আবদ্ধ প্রায় ৫০–৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

বিপিএ নেতারা অভিযোগ করেন, খাতের কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশেষত মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও চিকিৎসার দাম অনিয়মিতভাবে ওঠানামা করছে — যেখানে একটি বাচ্চার স্বাভাবিক দাম অনেকে ৩০ টাকার মধ্যে রাখার কথা বলছেন, সেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান সেটি ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি করছে। এ কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ বহন করতে পারছেন না; অনেকেই লোকসান সহ্য করতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।

সংগঠনের নেতা সুলতান হাসান বলেন, “লোকসান করে-করেই আমরা জমি-জায়গা সব হারাচ্ছি, পরিবারের রোজগার চালানো দায় হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে অনুরোধ—আমাদের পাশে দাঁড়ান, প্রণোদনা দিন।”

সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, “সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার যত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে ততই ভালো। ডিম আমদানি বাড়ায় ক্ষুদ্র খামারিরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটে ও সংশ্লিষ্ট স্তরে সংযুক্তদের কারণে বাজারে স্বচ্ছতা নেই।” তিনি সরকারি পর্যায়ে বসে সমস্যা আলোচনা করারও আহ্বান জানান।

বিপিএ যে ছয় দফা দাবি করেছে, সেগুলো হলো:

1. প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি ও সুবিধা নিশ্চিত করা।

2. সিন্ডিকেট ও করপোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

3. মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়মিত মূল্যনিরীক্ষা চালু করা।

4. খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন।

5. ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা ও তদারকি নিশ্চিত করা।

6. প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা প্রদান।

সংগঠনের সতর্কতায় বলা হয়েছে, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে পড়বে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার এই সংকটকে গুরুত্ব দেবে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পোল্ট্রি খাত বাঁচাতে খামারিদের ছয় দফা দাবি

প্রকাশিতঃ ০১:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা, চারা ও খাদকদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা খামারিদের ভোগান্তি এবং পোল্ট্রি খাতের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরেন।

নেতারা জানান, শেষ কয়েক মাসে উৎপাদন খরচ প্রকটভাবে বেড়ে গেলেও খামারিরা বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি শিল্প এবং এতে আবদ্ধ প্রায় ৫০–৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

বিপিএ নেতারা অভিযোগ করেন, খাতের কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশেষত মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও চিকিৎসার দাম অনিয়মিতভাবে ওঠানামা করছে — যেখানে একটি বাচ্চার স্বাভাবিক দাম অনেকে ৩০ টাকার মধ্যে রাখার কথা বলছেন, সেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান সেটি ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি করছে। এ কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ বহন করতে পারছেন না; অনেকেই লোকসান সহ্য করতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।

সংগঠনের নেতা সুলতান হাসান বলেন, “লোকসান করে-করেই আমরা জমি-জায়গা সব হারাচ্ছি, পরিবারের রোজগার চালানো দায় হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে অনুরোধ—আমাদের পাশে দাঁড়ান, প্রণোদনা দিন।”

সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, “সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার যত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে ততই ভালো। ডিম আমদানি বাড়ায় ক্ষুদ্র খামারিরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটে ও সংশ্লিষ্ট স্তরে সংযুক্তদের কারণে বাজারে স্বচ্ছতা নেই।” তিনি সরকারি পর্যায়ে বসে সমস্যা আলোচনা করারও আহ্বান জানান।

বিপিএ যে ছয় দফা দাবি করেছে, সেগুলো হলো:

1. প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি ও সুবিধা নিশ্চিত করা।

2. সিন্ডিকেট ও করপোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

3. মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়মিত মূল্যনিরীক্ষা চালু করা।

4. খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন।

5. ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা ও তদারকি নিশ্চিত করা।

6. প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা প্রদান।

সংগঠনের সতর্কতায় বলা হয়েছে, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে পড়বে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার এই সংকটকে গুরুত্ব দেবে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।