০১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে পরিশোধিত জ্বালানি: ১৬ জাহাজ পৌঁছেছে, আরও ৩টি পথে

মার্চের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানিপণ্য এসে পৌঁছেছে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বন্দরের তথ্যে বলা হয়েছে, এই সময়ে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনে মোট ১৬টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনে আরও তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রতি জাহাজ প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে দেশে এসে খালাস সম্পন্ন করেছে। পরে ১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ থেকে ২৬,১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।

এদিকে এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আগত জাহাজগুলো ইতোমধ্যে মোট ১৯,৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কার থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলমান আছে এবং মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ তা শেষ হওয়ার কথা।

এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি শিল্পখাতের জন্য জরুরি অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি—ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল ও বেজ অয়েল—ও বন্দরে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যে, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং প্রায় ৪ হাজার টন বেজ অয়েল দেশে পৌঁছেছে।

বিশ্ববাজারে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় জাহাজ চলাচল ও বীমা খরচে প্রভাব পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবু বন্দরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এখনই নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালির আশপাশে কোনো সংঘাত বা বিঘ্ন ঘটলে জাহাজের সময়সূচি ও পরিবহন ব্যয়ে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক খালাস কার্যক্রম চালিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে—এটাই সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরে পরিশোধিত জ্বালানি: ১৬ জাহাজ পৌঁছেছে, আরও ৩টি পথে

প্রকাশিতঃ ০৯:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

মার্চের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানিপণ্য এসে পৌঁছেছে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বন্দরের তথ্যে বলা হয়েছে, এই সময়ে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনে মোট ১৬টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনে আরও তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রতি জাহাজ প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে দেশে এসে খালাস সম্পন্ন করেছে। পরে ১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ থেকে ২৬,১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।

এদিকে এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আগত জাহাজগুলো ইতোমধ্যে মোট ১৯,৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কার থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলমান আছে এবং মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ তা শেষ হওয়ার কথা।

এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি শিল্পখাতের জন্য জরুরি অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি—ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল ও বেজ অয়েল—ও বন্দরে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যে, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং প্রায় ৪ হাজার টন বেজ অয়েল দেশে পৌঁছেছে।

বিশ্ববাজারে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় জাহাজ চলাচল ও বীমা খরচে প্রভাব পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবু বন্দরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এখনই নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালির আশপাশে কোনো সংঘাত বা বিঘ্ন ঘটলে জাহাজের সময়সূচি ও পরিবহন ব্যয়ে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক খালাস কার্যক্রম চালিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে—এটাই সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস।