০৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩-২৫ মার্চ স্মৃতিসৌধে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জ্বালানি পর্যাপ্ত থাকবে: মন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা তারেক রহমান সরাসরি মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ হবে: মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি: সম্মিলিত আন্দোলনেই ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সংসদে খালেদা জিয়া ও বিশিষ্ট দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অভিনন্দন খালেদা জিয়া ও মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনের স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব

প্রত্যাশার তুলনায় মান্থর ঈদবাজার: কেন নেই আগের সেই উত্সাহ?

পবিত্র ঈদুল ফিতর নিকটে এসে গেলেও রমজানের তিন সপ্তাহ পার হলেও দেশের ফ্যাশন হাউজগুলোতে এখনো তীব্র কেনাকাটার জোয়ার দেখা যায়নি। দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউজ এবং কয়েকশো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড উৎসব মৌসুম থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও লাভের প্রত্যাশা করলেও এবারের বাজারের চিত্র মিশ্র ও হতাশাজনক।

টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই কিংবা রঙ বাংলাদেশ—এসব পরিচিত ব্র্যান্ডের নতুন সংগ্রহ থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো আমোদ-আডম্বরে কেনাকাটার আগ্রহ কম। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নতুন সরকার গঠনের পর বাজারে জমজমাট ভাব ফেরবে, কিন্তু বাস্তবে বেচাবিক্রি মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

ফ্যাশন উদ্যোক্তারা প্রথমে গত বছরের তুলনায় ১০–১৫ শতাংশ বিক্রিবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিলেন। সেই ভিত্তিতে রাজধানীর নামী শপিং মল থেকে শুরু করে অলিগলির আউটলেটগুলো সাজানো হয়েছে। তবুও ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা ধীরে ধীরে বেছে বেছে কেনাকাটা করছেন—বেশি ভিড় নেই। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিজ মার্কেটের শোরুমগুলোতে লোক আছে হলেও অনেকে দাম ও মান যাচাই করে সময় নিচ্ছেন। মাসের শেষ দিকে যে ধরণের হুড়োহুড়ি হত, তা এই মুহূর্তে অনুপস্থিত।

আবহাওয়ার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বদলেছে; বহু গ্রাহক গরম-আদ্র আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে হালকা সুতি কাপড়ের দিকে ঝুঁকছেন। এজন্য সিল্ক বা বয়েল মতো ভারি কাপড়ের চাহিদা তুলনায় কম। আবার মেয়েদের মধ্যে তিন-পিস ও টু-পিসের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ছেলেদের প্যাশনে বড় পরিবর্তন না থাকলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি-পাজামার জনপ্রিয়তা অটুট।

বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোডের কিছু প্রতিষ্ঠিত আউটলেট বলছে, বিক্রি এখনও সন্তোষজনক হয়নি এবং বাজার অনিশ্চিত। কিন্তু অন্যদিকে কয়েকটি শীর্ষ ব্র্যান্ড তাদের বিক্রি গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন—বিশেষত যেখানে রঙের বৈচিত্র্য ও নতুন ডিজাইনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট গ্রাহকশ্রেণি এখনও ব্র্যান্ড শপে আস্থা রাখছেন।

পাইকারি বাজারের মন্থরতা সরাসরি খুচরা বিক্রি ও শোরুমের ওপর প্রভাব ফেলছে। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে খরচ কমাচ্ছেন; তারা তুলনামূলকভাবে বাজেটভিত্তিক পণ্য খুঁজতে মার্কেটের ওপরতলা থেকে নিচতলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বণিকরা বলছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ফ্যাশন সেক্টরে চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও কিছু বড় ব্র্যান্ড সামান্য বৃদ্ধি দেখলেও সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও চাইতেও বেশি চাঙ্গা হয়নি। ব্যবসায়ীরা আগামিকাল-পরশু পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন—ঈদের শেষ কয়েকদিনে যদি সাধারণ মানুষের তাল মিলিয়ে আগমন না হয়, তাহলে উৎসবভিত্তিক এই বিশাল মার্কেট ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

সংক্ষেপে, এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থাহীনতার ছাপ পড়েছে, সেটি একদমই ব্যতিক্রমী না। বাজারের চাঞ্চল্য ও ক্রেতাদের ফিরতি উত্সাহ সামনের কয়েক দিনেই নির্ধারণ করবে যে সেক্টরটি সম্পূর্ণভাবে ফিরে এসেছে কিনা। এখন ব্যবসায়ীদের হাতে সময়–আর ক্রেতাদের হাতে ধৈর্য রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত

প্রত্যাশার তুলনায় মান্থর ঈদবাজার: কেন নেই আগের সেই উত্সাহ?

প্রকাশিতঃ ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর নিকটে এসে গেলেও রমজানের তিন সপ্তাহ পার হলেও দেশের ফ্যাশন হাউজগুলোতে এখনো তীব্র কেনাকাটার জোয়ার দেখা যায়নি। দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউজ এবং কয়েকশো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড উৎসব মৌসুম থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও লাভের প্রত্যাশা করলেও এবারের বাজারের চিত্র মিশ্র ও হতাশাজনক।

টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই কিংবা রঙ বাংলাদেশ—এসব পরিচিত ব্র্যান্ডের নতুন সংগ্রহ থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো আমোদ-আডম্বরে কেনাকাটার আগ্রহ কম। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নতুন সরকার গঠনের পর বাজারে জমজমাট ভাব ফেরবে, কিন্তু বাস্তবে বেচাবিক্রি মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

ফ্যাশন উদ্যোক্তারা প্রথমে গত বছরের তুলনায় ১০–১৫ শতাংশ বিক্রিবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিলেন। সেই ভিত্তিতে রাজধানীর নামী শপিং মল থেকে শুরু করে অলিগলির আউটলেটগুলো সাজানো হয়েছে। তবুও ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা ধীরে ধীরে বেছে বেছে কেনাকাটা করছেন—বেশি ভিড় নেই। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিজ মার্কেটের শোরুমগুলোতে লোক আছে হলেও অনেকে দাম ও মান যাচাই করে সময় নিচ্ছেন। মাসের শেষ দিকে যে ধরণের হুড়োহুড়ি হত, তা এই মুহূর্তে অনুপস্থিত।

আবহাওয়ার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বদলেছে; বহু গ্রাহক গরম-আদ্র আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে হালকা সুতি কাপড়ের দিকে ঝুঁকছেন। এজন্য সিল্ক বা বয়েল মতো ভারি কাপড়ের চাহিদা তুলনায় কম। আবার মেয়েদের মধ্যে তিন-পিস ও টু-পিসের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ছেলেদের প্যাশনে বড় পরিবর্তন না থাকলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি-পাজামার জনপ্রিয়তা অটুট।

বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোডের কিছু প্রতিষ্ঠিত আউটলেট বলছে, বিক্রি এখনও সন্তোষজনক হয়নি এবং বাজার অনিশ্চিত। কিন্তু অন্যদিকে কয়েকটি শীর্ষ ব্র্যান্ড তাদের বিক্রি গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন—বিশেষত যেখানে রঙের বৈচিত্র্য ও নতুন ডিজাইনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট গ্রাহকশ্রেণি এখনও ব্র্যান্ড শপে আস্থা রাখছেন।

পাইকারি বাজারের মন্থরতা সরাসরি খুচরা বিক্রি ও শোরুমের ওপর প্রভাব ফেলছে। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে খরচ কমাচ্ছেন; তারা তুলনামূলকভাবে বাজেটভিত্তিক পণ্য খুঁজতে মার্কেটের ওপরতলা থেকে নিচতলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বণিকরা বলছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ফ্যাশন সেক্টরে চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও কিছু বড় ব্র্যান্ড সামান্য বৃদ্ধি দেখলেও সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও চাইতেও বেশি চাঙ্গা হয়নি। ব্যবসায়ীরা আগামিকাল-পরশু পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন—ঈদের শেষ কয়েকদিনে যদি সাধারণ মানুষের তাল মিলিয়ে আগমন না হয়, তাহলে উৎসবভিত্তিক এই বিশাল মার্কেট ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

সংক্ষেপে, এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থাহীনতার ছাপ পড়েছে, সেটি একদমই ব্যতিক্রমী না। বাজারের চাঞ্চল্য ও ক্রেতাদের ফিরতি উত্সাহ সামনের কয়েক দিনেই নির্ধারণ করবে যে সেক্টরটি সম্পূর্ণভাবে ফিরে এসেছে কিনা। এখন ব্যবসায়ীদের হাতে সময়–আর ক্রেতাদের হাতে ধৈর্য রয়েছে।