০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল যুগে হারিয়ে যাচ্ছে ঈদ কার্ডের ঐতিহ্য

আধুনিকতার ছোঁয়া এখন গ্রামের প্রত্যন্ত কোণেও পৌঁছে গেছে। হাতে মোবাইল নেই—এমন পরিবার আজ খুবই কম। আগে ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব হাতে হাতে ঈদ কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন। এখন সেই স্থানে মেসেঞ্জার, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ নানা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শুভেচ্ছা ছড়িয়ে পড়ে কয়েক ক্লিকে।

এখন পাড়া-মহল্লার মোড়ে, অলিগলিতে চোখে পড়ে না সেই ছোট ছোট ঈদ কার্ডের দোকানগুলো। এখনকার শিশুরাও কার্ড কিনতে তেমন উত্‍সাহী নয়—স্কুলের খরচ বাঁচাতে অভিভাবকরা কার্ড কেনার আনন্দ থেকে কাটা দিয়েছেন। ফলে ঈদ কার্ড কেনার সেই ম্লান আনন্দ স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

মাইশা ইসলাম এ বিষয়ে বলছেন, “আগের মতো কার্ড বেঁছে বেঁছে দিতে সময়ই নেই, খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিনগুলো শেষ।” ডিজিটালের যুগে কয় সেকেন্ডেই শত শত মানুষকে একই বার্তা ‘কপি-পেস্ট’ করে পাঠানো যায়।

এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনের হাতে হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া—হাতে নাগাল লেগে যাওয়া কাগজের সেই আলাদাভাবে আনন্দ ছিল। কার্ডের ভেতরে হাতে লেখা দু-এক লাইন শুভেচ্ছা, নীচে নামটা রাখলে সেটাই ছিল পেয়েই ওঠার তৃপ্তি। আজ সে আন্তরিকতা অনেকটাই হারিয়ে গেছে; হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার নীল টিকেই সেখানে বদলে গেছে সময় ও মনোযোগের মূল্যায়ন।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি আমাদের জীবন সহজ করেছে এটা অস্বীকারের নেই; তবে এর সঙ্গে অনেক জীবনবোধপূর্ণ ঐতিহ্যও ছাপিয়ে গেছে। আজকের ঈদ শুভেচ্ছা হলে তা প্রায় সময়ই ফরোয়ার্ড করা একটি মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি বা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট—দূরত্ব কমলেও বার্তার পিছনের মানবিক সম্পর্কটা অনেক ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

বাবা-মায়েদের কিশোর-বয়সে রোজা শুরু হওয়ার পর থেকেই ঈদ কার্ড সংগ্রহের উত্তেজনা থাকত। পাড়া জুড়ে ছোট ছোট কার্ডের দোকান, প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড বা ঝকঝকে গ্লিটার-যুক্ত নকশা, সবকিছুই ছিল হাতের নাগালে। আজ সেই দৃশ্যগুলো অ্যালবামের কোণে জমছে ধুলোর সঙ্গে—হারিয়ে গেছে ছোঁয়া-আলিঙ্গনের সেই সরাসরি অভিব্যক্তি।

প্রযুক্তিকে আমরা আত্মীয়তা করবো না—এটা আমাদের জীবনকে অনেকভাবে বাড়তি করে দিয়েছে। তবু ঐতিহ্যের এই সখ্যহীনতা একটু শূন্যতা ছেড়ে যায়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা থাকুক, কিন্তু হৃদয়ের কাগজে মোড়ানো সেই পুরনো ঈদ কার্ডের আবেদন যেন স্মৃতির কক্ষে অম্লান থাকুক। হতে পারে আগামী প্রজন্ম একদিন প্রযুক্তির মাঝেও কেন-ইবা ভিন্নভাবে ঐতিহ্যের দিকে ফিরবে—ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে একবার তাকিয়ে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সদরঘাটে লঞ্চ চাপায় দুই যাত্রী নিহত, দুজন নিখোঁজ

ডিজিটাল যুগে হারিয়ে যাচ্ছে ঈদ কার্ডের ঐতিহ্য

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আধুনিকতার ছোঁয়া এখন গ্রামের প্রত্যন্ত কোণেও পৌঁছে গেছে। হাতে মোবাইল নেই—এমন পরিবার আজ খুবই কম। আগে ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব হাতে হাতে ঈদ কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন। এখন সেই স্থানে মেসেঞ্জার, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ নানা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শুভেচ্ছা ছড়িয়ে পড়ে কয়েক ক্লিকে।

এখন পাড়া-মহল্লার মোড়ে, অলিগলিতে চোখে পড়ে না সেই ছোট ছোট ঈদ কার্ডের দোকানগুলো। এখনকার শিশুরাও কার্ড কিনতে তেমন উত্‍সাহী নয়—স্কুলের খরচ বাঁচাতে অভিভাবকরা কার্ড কেনার আনন্দ থেকে কাটা দিয়েছেন। ফলে ঈদ কার্ড কেনার সেই ম্লান আনন্দ স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

মাইশা ইসলাম এ বিষয়ে বলছেন, “আগের মতো কার্ড বেঁছে বেঁছে দিতে সময়ই নেই, খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিনগুলো শেষ।” ডিজিটালের যুগে কয় সেকেন্ডেই শত শত মানুষকে একই বার্তা ‘কপি-পেস্ট’ করে পাঠানো যায়।

এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনের হাতে হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া—হাতে নাগাল লেগে যাওয়া কাগজের সেই আলাদাভাবে আনন্দ ছিল। কার্ডের ভেতরে হাতে লেখা দু-এক লাইন শুভেচ্ছা, নীচে নামটা রাখলে সেটাই ছিল পেয়েই ওঠার তৃপ্তি। আজ সে আন্তরিকতা অনেকটাই হারিয়ে গেছে; হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার নীল টিকেই সেখানে বদলে গেছে সময় ও মনোযোগের মূল্যায়ন।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি আমাদের জীবন সহজ করেছে এটা অস্বীকারের নেই; তবে এর সঙ্গে অনেক জীবনবোধপূর্ণ ঐতিহ্যও ছাপিয়ে গেছে। আজকের ঈদ শুভেচ্ছা হলে তা প্রায় সময়ই ফরোয়ার্ড করা একটি মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি বা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট—দূরত্ব কমলেও বার্তার পিছনের মানবিক সম্পর্কটা অনেক ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

বাবা-মায়েদের কিশোর-বয়সে রোজা শুরু হওয়ার পর থেকেই ঈদ কার্ড সংগ্রহের উত্তেজনা থাকত। পাড়া জুড়ে ছোট ছোট কার্ডের দোকান, প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড বা ঝকঝকে গ্লিটার-যুক্ত নকশা, সবকিছুই ছিল হাতের নাগালে। আজ সেই দৃশ্যগুলো অ্যালবামের কোণে জমছে ধুলোর সঙ্গে—হারিয়ে গেছে ছোঁয়া-আলিঙ্গনের সেই সরাসরি অভিব্যক্তি।

প্রযুক্তিকে আমরা আত্মীয়তা করবো না—এটা আমাদের জীবনকে অনেকভাবে বাড়তি করে দিয়েছে। তবু ঐতিহ্যের এই সখ্যহীনতা একটু শূন্যতা ছেড়ে যায়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা থাকুক, কিন্তু হৃদয়ের কাগজে মোড়ানো সেই পুরনো ঈদ কার্ডের আবেদন যেন স্মৃতির কক্ষে অম্লান থাকুক। হতে পারে আগামী প্রজন্ম একদিন প্রযুক্তির মাঝেও কেন-ইবা ভিন্নভাবে ঐতিহ্যের দিকে ফিরবে—ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে একবার তাকিয়ে।