১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল কাশিমপুর সড়ক, পরিচালক ও প্রকৌশলী বরখাস্ত

গাজীপুর সিটির কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মিত এক নব সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তিনি নির্মাণকাজে গাফিলতি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রকল্পের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

বরখাস্তকৃত দুইজন হলেন সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমান। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বরখাস্তপত্র সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের হাতে হস্তান্তর করেন।

তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিং পদ্ধতিতে করা ওই সড়কটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে ধসে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-রোষ দেখা দেয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘‘জনগণের টাকায় করা উন্নয়নকাজে অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রতিমন্ত্রী পূর্বের তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং তাদেরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে; এর সঙ্গে প্রচলিত জলোবায়ু বা প্রাকৃতিক দুর্যোগও ধসের একটি কারণ হিসেবে প্রভাব ফেলতে পারে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প দুটি প্যাকেজে বিভক্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল) বাস্তবায়ন করছিল। প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে উচ্চ মূল্যে প্রদান করা হয়েছিল এবং মোট ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি টাকার ওপরে ধরা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কাজের শুরু থেকেই মান নিয়ে সন্দেহ ছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় কোটি টাকার এই সড়ক উদ্বোধনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে এলাকাবাসী স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মানসম্মতভাবে সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি করেছেন। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও দায়-নির্ধারণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ করাসহ জনগণের ভোগান্তি দূর করার কাজ শুরু হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল কাশিমপুর সড়ক, পরিচালক ও প্রকৌশলী বরখাস্ত

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

গাজীপুর সিটির কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মিত এক নব সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তিনি নির্মাণকাজে গাফিলতি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রকল্পের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

বরখাস্তকৃত দুইজন হলেন সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমান। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বরখাস্তপত্র সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের হাতে হস্তান্তর করেন।

তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিং পদ্ধতিতে করা ওই সড়কটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে ধসে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-রোষ দেখা দেয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘‘জনগণের টাকায় করা উন্নয়নকাজে অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রতিমন্ত্রী পূর্বের তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং তাদেরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে; এর সঙ্গে প্রচলিত জলোবায়ু বা প্রাকৃতিক দুর্যোগও ধসের একটি কারণ হিসেবে প্রভাব ফেলতে পারে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প দুটি প্যাকেজে বিভক্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল) বাস্তবায়ন করছিল। প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে উচ্চ মূল্যে প্রদান করা হয়েছিল এবং মোট ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি টাকার ওপরে ধরা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কাজের শুরু থেকেই মান নিয়ে সন্দেহ ছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় কোটি টাকার এই সড়ক উদ্বোধনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে এলাকাবাসী স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মানসম্মতভাবে সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি করেছেন। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও দায়-নির্ধারণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ করাসহ জনগণের ভোগান্তি দূর করার কাজ শুরু হবে।