মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন নাটকীয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল যে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং ইরানও এই আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে কড়া বিদ্রুপ করেছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র একাধারে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানে পাঠাতে চেষ্টা করেছে। ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন যে কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারসের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি এসব দাবি কল্পনাপ্রসূত বলেই নাকচ করেছেন।
জুলফাকারি মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন—কি এমন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি চলছে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিজেরা নিজেদেরই সঙ্গে কথা বলছে’? তিনি বলেছেন, এই ধরনের দাবি জনগণকে বিভ্রান্ত করার এক কৌশল মাত্র।
অধিকন্তু জুলফাকারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে আদর্শিক ও নৈতিক ব্যবধানের কারণে ইরান কোনোভাবেই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় বসবে না। তার মতে, ইরান কোনো চাপে ভেঙে পড়বে না এবং ওয়াশিংটনের একপক্ষীয় শর্ত মেনে আলোচনা করবে না। তিনি মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতাকে সময় নষ্ট এবং অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তির প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিভক্ত আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান আরও একটি বড় হুঁশিয়ারি দেখিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। জুলফাকারি বলেন, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না যে এ অঞ্চলের বাস্তব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপরই নির্ভরশীল, ততদিন জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক ভূমিকা সম্মান করা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা আগের মতো অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নেই।
ইরানের এই অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফার পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























