০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায়, উদ্ধারকাজ চলছে আঞ্চলিক কার্যালয়েও বায়োমেট্রিক যাচাই শুরু ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশরের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানালেন তথ্যমন্ত্রী ঋণের জট খুলছে: ১.৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার ক্ষতিপূরণে ১০টি শনিবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশে সবাই একমত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

ইরানের বিদ্রু: ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের সঙ্গে আলোচনা করছে’

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে শান্তিচर्चার চলছে—সেটাকে ঘিরে নতুন পাল্টাপাল্টি শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ ঠেকাতে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে আলোচনা করছে এবং ইরান সেই প্রস্তাবকে ইতিবাচক দিচ্ছে। কিন্তু এই দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করে কড়া বিদ্রুপ জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপরস্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি মার্কিন প্রশাসনের কথাগুলোকে ‘নিজেদের সঙ্গে নিজেদের কথা বলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব দাবি বাস্তবসম্মত নয়—বরং এক ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের প্রকাশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানে একটি ১৫ দফার বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, ওয়াশিংটন কিছুদিনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সক্রিয় ছিল এবং এবারের প্রক্রিয়াকে ইরান ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবু তেহরান মনে করে ওই দাবিগুলো কল্পনাপ্রসূত।

জুলফাকারি আরও সাব্যস্ত করেছেন যে, আদর্শগত ও নৈতিক মৌলিকত্বের কারণে ইরানের মত বিপ্লবী শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমঝোতা কখনই সম্ভব নয়। তাঁর মতে, মার্কিন কর্তাদের বিবৃতি জনগণের মন বিভ্রান্ত করার কৌশল মাত্র—ইরান কোনো বিদেশি চাপের নিচে গিয়ে একপাক্ষিক শর্ত মেনে আলোচনা করবে না।

অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার সম্পর্কে সতর্কবার্তাও দিয়েছে। জুলফাকারি দাবি করেছেন, এ অঞ্চলের প্রকৃত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অস্বীয্য, এবং এই বাস্তবতা স্বীকার না করলে জ্বালানি তেলের দামে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

তিনি আরও বলেন, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক ভূমিকাকে সম্মান না করলে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা যুদ্ধোত্তর স্বাভাবিক অর্থনৈতিক অবস্থা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত নীচে থাকবে।

বর্তমান অবস্থায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের কথাবার্তা যে দ্বিমুখী নির্দেশে চলছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত ও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে, ফলে অঞ্চলে উত্তেজনা টিকে আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পরিণতি কবে কোথায় পৌঁছাবে তা বলা কঠিন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে

ইরানের বিদ্রু: ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের সঙ্গে আলোচনা করছে’

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে শান্তিচर्चার চলছে—সেটাকে ঘিরে নতুন পাল্টাপাল্টি শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ ঠেকাতে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে আলোচনা করছে এবং ইরান সেই প্রস্তাবকে ইতিবাচক দিচ্ছে। কিন্তু এই দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করে কড়া বিদ্রুপ জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপরস্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি মার্কিন প্রশাসনের কথাগুলোকে ‘নিজেদের সঙ্গে নিজেদের কথা বলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব দাবি বাস্তবসম্মত নয়—বরং এক ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের প্রকাশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানে একটি ১৫ দফার বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, ওয়াশিংটন কিছুদিনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সক্রিয় ছিল এবং এবারের প্রক্রিয়াকে ইরান ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবু তেহরান মনে করে ওই দাবিগুলো কল্পনাপ্রসূত।

জুলফাকারি আরও সাব্যস্ত করেছেন যে, আদর্শগত ও নৈতিক মৌলিকত্বের কারণে ইরানের মত বিপ্লবী শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমঝোতা কখনই সম্ভব নয়। তাঁর মতে, মার্কিন কর্তাদের বিবৃতি জনগণের মন বিভ্রান্ত করার কৌশল মাত্র—ইরান কোনো বিদেশি চাপের নিচে গিয়ে একপাক্ষিক শর্ত মেনে আলোচনা করবে না।

অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার সম্পর্কে সতর্কবার্তাও দিয়েছে। জুলফাকারি দাবি করেছেন, এ অঞ্চলের প্রকৃত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অস্বীয্য, এবং এই বাস্তবতা স্বীকার না করলে জ্বালানি তেলের দামে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

তিনি আরও বলেন, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক ভূমিকাকে সম্মান না করলে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা যুদ্ধোত্তর স্বাভাবিক অর্থনৈতিক অবস্থা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত নীচে থাকবে।

বর্তমান অবস্থায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের কথাবার্তা যে দ্বিমুখী নির্দেশে চলছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত ও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে, ফলে অঞ্চলে উত্তেজনা টিকে আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পরিণতি কবে কোথায় পৌঁছাবে তা বলা কঠিন।