১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয় ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি — সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলানো যাবে না

বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে আর সরকারি বাধা নেই

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচারে আর কোনো সরকারি বাধা রইল না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন আইপিএল প্রদর্শন নিয়ে আর বাধার মুখে পড়বে না — এমনই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ।

তার পেছনে খুঁজে পাওয়া যায় পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের তৈরি হওয়া মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। তখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া ঘটনা দুই দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল এবং সেটিই আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সেই অচল অবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সরকার খেলাধুলাকে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে দেখার পক্ষপাতী নয়। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত officieel কোনো আবেদন তাদের কাছে আসে নি, তবে যদি কোনো দেশি বা বিদেশি চ্যানেল আইপিএল সম্প্রচার করতে চায়, সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে স্টার স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক চ্যানেলে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইপিএল সম্প্রচারের বিষয়ে জট খুলতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আয়োজনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং বর্তমান প্রশাসন ক্রীড়াকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখতে চায় না।

কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (কোয়াব)ও সম্প্রচারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। সংস্থার সেক্রেটারি রেজাউল করিম লাবু বলেছেন, স্টার স্পোর্টস বা অন্য কোনো চ্যানেলে আইপিএল প্রদর্শনে তারা বাধা দেবে না কারণ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, পুরনো নির্দেশনাগুলো বর্তমান বাস্তবে আর প্রাসঙ্গিক নয়; যদি সরকার স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা না দেয়, সম্প্রচার স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

আইপিএলের এবারের প্রথম ম্যাচ আজ শনিবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দর্শকরা স্টার স্পোর্টস ১ ও ২ সহ নির্ধারিত অন্যান্য চ্যানেলে সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন — কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত বাধা নেই।

দীর্ঘ বিরতির পর আইপিএল সম্প্রচারের এই ইস্যু মীমাংসা ক্রীড়াপ্রেমী ও বাণিজ্যিক সম্প্রচার ব্যবস্থার জন্য এক ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ড্রয়িংরুমে আবারও আইপিএলের উন্মাদনা নিয়মিত ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ

বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে আর সরকারি বাধা নেই

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচারে আর কোনো সরকারি বাধা রইল না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন আইপিএল প্রদর্শন নিয়ে আর বাধার মুখে পড়বে না — এমনই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ।

তার পেছনে খুঁজে পাওয়া যায় পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের তৈরি হওয়া মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। তখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া ঘটনা দুই দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল এবং সেটিই আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সেই অচল অবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সরকার খেলাধুলাকে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে দেখার পক্ষপাতী নয়। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত officieel কোনো আবেদন তাদের কাছে আসে নি, তবে যদি কোনো দেশি বা বিদেশি চ্যানেল আইপিএল সম্প্রচার করতে চায়, সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে স্টার স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক চ্যানেলে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইপিএল সম্প্রচারের বিষয়ে জট খুলতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আয়োজনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং বর্তমান প্রশাসন ক্রীড়াকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখতে চায় না।

কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (কোয়াব)ও সম্প্রচারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। সংস্থার সেক্রেটারি রেজাউল করিম লাবু বলেছেন, স্টার স্পোর্টস বা অন্য কোনো চ্যানেলে আইপিএল প্রদর্শনে তারা বাধা দেবে না কারণ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, পুরনো নির্দেশনাগুলো বর্তমান বাস্তবে আর প্রাসঙ্গিক নয়; যদি সরকার স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা না দেয়, সম্প্রচার স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

আইপিএলের এবারের প্রথম ম্যাচ আজ শনিবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দর্শকরা স্টার স্পোর্টস ১ ও ২ সহ নির্ধারিত অন্যান্য চ্যানেলে সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন — কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত বাধা নেই।

দীর্ঘ বিরতির পর আইপিএল সম্প্রচারের এই ইস্যু মীমাংসা ক্রীড়াপ্রেমী ও বাণিজ্যিক সম্প্রচার ব্যবস্থার জন্য এক ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ড্রয়িংরুমে আবারও আইপিএলের উন্মাদনা নিয়মিত ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।