১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয় র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি — সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলানো যাবে না

ট্রাম্প: যুদ্ধ শেষ হয়নি, ইরানে এখনও ৩৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার মিয়ামিতে দেয়া এক ভাষণে ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত এখনও শেষ হয়নি এবং ইরানের বিপরীতে অন্তত ৩ হাজার ৫শত ৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এখনো মার্কিন হামলার তালিকায় রয়েছে। তিনি বললেন, এই নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোতে আঘাত হানার পরই পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্রাম্প পূর্বেও কয়েকবার এই সংঘাতে ‘জয়ের’ দাবি করে থাকলেও মিয়ামির ভাষণে তিনি প্রথমবার স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে নেই। একই সঙ্গে তিনি দ্রুতই যুদ্ধে চূড়ান্ত ইতি টানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মার্কো রুবিও—যিনি ফ্লোরিদার সিনেটর—জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান-সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। তিনি জি-৭ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন যে ওয়াশিংটন তার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথে আছে।

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি স্থলবাহিনী পাঠানো রোধ করে কেবল আকাশধারা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব—এমনটাই তারা মনে করছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত মার্কিন সৈন্যের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং আন্তর্জাতিক আঘাত সীমিত রাখা লক্ষ্য থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট ‘টার্গেট লিস্ট’ ধরে ধাপে ধাপে কাজ করছে। ৩৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্বের দাবি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ এখনও সক্রিয় রয়েছে—এমনই ইঙ্গিত দেয়। টার্গেটগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাধান্যের মধ্যে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে এই লক্ষ্যগুলো গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সহজ হবে না—এমনই নীতি তারা ঘোষণা করেছে। এখনকার পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে: একদিকে ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে তিনি হামলার পরিধি বাড়ানোর কথাও তুলেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ ফলাফল নির্ধারণ করবে ইরানি বাহিনীর প্রতিরোধক্ষমতা, তাদের কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে সংঘাতের মঞ্চে কোন ধরনের টেকনিক্যাল পরিবর্তন আসে। আপাতত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাখ্যার এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ

ট্রাম্প: যুদ্ধ শেষ হয়নি, ইরানে এখনও ৩৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাকি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার মিয়ামিতে দেয়া এক ভাষণে ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত এখনও শেষ হয়নি এবং ইরানের বিপরীতে অন্তত ৩ হাজার ৫শত ৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এখনো মার্কিন হামলার তালিকায় রয়েছে। তিনি বললেন, এই নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোতে আঘাত হানার পরই পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্রাম্প পূর্বেও কয়েকবার এই সংঘাতে ‘জয়ের’ দাবি করে থাকলেও মিয়ামির ভাষণে তিনি প্রথমবার স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে নেই। একই সঙ্গে তিনি দ্রুতই যুদ্ধে চূড়ান্ত ইতি টানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মার্কো রুবিও—যিনি ফ্লোরিদার সিনেটর—জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান-সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। তিনি জি-৭ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন যে ওয়াশিংটন তার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথে আছে।

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি স্থলবাহিনী পাঠানো রোধ করে কেবল আকাশধারা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব—এমনটাই তারা মনে করছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত মার্কিন সৈন্যের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং আন্তর্জাতিক আঘাত সীমিত রাখা লক্ষ্য থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট ‘টার্গেট লিস্ট’ ধরে ধাপে ধাপে কাজ করছে। ৩৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্বের দাবি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ এখনও সক্রিয় রয়েছে—এমনই ইঙ্গিত দেয়। টার্গেটগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাধান্যের মধ্যে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে এই লক্ষ্যগুলো গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সহজ হবে না—এমনই নীতি তারা ঘোষণা করেছে। এখনকার পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে: একদিকে ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে তিনি হামলার পরিধি বাড়ানোর কথাও তুলেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ ফলাফল নির্ধারণ করবে ইরানি বাহিনীর প্রতিরোধক্ষমতা, তাদের কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে সংঘাতের মঞ্চে কোন ধরনের টেকনিক্যাল পরিবর্তন আসে। আপাতত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাখ্যার এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।