২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ে মুখোমুখি হয়ে এক নাটকীয় প্রীতি ম্যাচ খেলল। খেলাটি ফুটবলীয় কোপালকতায় না থেকে মাঠে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে বেশি আলোচনায় থাকে—বেন হোয়াইটের প্রত্যাবর্তন ও গোল, রেফারির কার্ডসংক্রান্ত বিভ্রান্তি এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি মিলিয়ে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়।
শুরু থেকেই ইংল্যান্ড বল দখলে আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়; প্রথমার্ধে তাদের পজেশন ছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ। তবু গোলের সৃষ্টি করা আর সুযোগগুলো কাজে লাগানোতে তারা ব্যর্থ রইল। হ্যারি ম্যাগুয়েরের এক অনিশ্চিত হেড ছাড়া বড় কোনো সম্ভাব্য গোলে যেতে পারেনি স্বাগতিকরা। উরুগুয়ের পক্ষে ফেদে ভালভার্দে কিছু আক্রমণ সংগঠিত করলেও বিরতির আগে ক কোন দলই জালে ছোঁয়া দেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার গতি ধীর ছিল। ৭১ মিনিটে কোল পালমারের ফ্রি-কিক থেকে একটি সুযোগ তৈরি হলেও ডোমিনিক কালভার্ট-লুইন তা কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বেন হোয়াইটকে বদলি হিসেবে নামানো হলে তাকে নিয়ে গ্যালারিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ফুটে ওঠে—২০২২ বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত কারণে দল ছাড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে উহ্য অনুভব ছিল।
৮১ মিনিটে সেই বেন হোয়াইটই ফের দলকে আনন্দে ভাসান। কোল পলমারের ফ্লিক থেকে ফেরত বল উদ্ধার করতে গিয়ে উরুগুয়ে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা সঠিকভাবে বল পরিষ্কার করতে না পারায় ফিরতি বলে হোয়াইট গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। কিন্তু যোগ করা সময়ে তৃতীয় মিনিটে হোয়াইটই আরও একবার ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন: ডি-বক্সে উরুগুয়ের ফেরদেরিকো ভিনিয়াসকে ফাউল করে তিনি পেনাল্টি দিচ্ছেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভিএআর যাচাইয়ের পর রেফারি পেনাল্টি দেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফেদে ভালভার্দে নিখুঁত শটে গোল করে দলের সমতা ফিরিয়ে আনেন—এটি তাঁর ক্লাব ও জাতীয় মিলিয়ে কালের শেষ ছয় ম্যাচে সপ্তম গোল।
গোল এবং পেনাল্টির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল উগার্তের কার্ড ইস্যু। দ্বিতীয়ার্ধে কোল পালমারের সঙ্গে কথাজটিলতায় প্রথম হলুদ পান উগার্তে। পরবর্তীতে রেফারির এক সিদ্ধান্তের উপর প্রতিবাদ করলে তাকে দ্বিতীয় করে হলুদ দেখানো হয়, যা নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। তবু রেফারিকে (সোয়েন জাবলনস্কি হিসেবে উল্লেখ) মাঠে তাকে বহিষ্কারের কোনো স্পষ্ট সংকেত দিতে দেখা যায়নি। এই বিভ্রান্তির পর উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা দ্রুত উগার্তেকে বদলি করে মাঠ থেকে তুলে নেন। পরে জানা যায় যে রেফারির দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ বাতিল করা হয়েছিল, কিন্তু মাঠে কোনো পরিষ্কার বিজ্ঞপ্তি বা সংকেত না থাকায় পরিস্থিতি অধিক জরাল বলে মনে হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ড ম্যাচে বেশ এগিয়ে ছিল—মোট ৯ শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে গিয়েছে—তবু ফিনিশিংয়ের অভাবে তারা তিন পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি। উরুগুয়ে একমাত্র লক্ষ্যে থাকা শট থেকেই গোল করে মূল্যবান এক ড্র নির্ধারণ করে। থমাস টুখেলের দল হিসেবে এই ফল চিন্তার বিষয়, আর উগার্তের কার্ড-ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে রেফারিংয়ের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সবশেষে, নাটকীয়তায় ভরা এই প্রীতি ম্যাচটি দুইদলই একে অপরকে ভাগ করে নেয়া পয়েন্টে শেষ করতে বাধ্য হলো।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























