তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিবেশগত সমস্যা কোনো এক অর্থবছর বা পঞ্চবার্ষিকীর পরিকল্পনার সীমাবদ্ধ বিষয় নয়; এটি মানব সভ্যতার অস্তিত্বমূলক সংকট। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কেবল অ্যাকাডেমিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতি, জ্বালানি সংকট ও পরিবেশের মধ্যে থাকা গভীর সম্পর্কটি বুঝতে হবে এবং সেটিকে কাজে লাগাতে শিখতে হবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) আয়োজিত ‘সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, পরিবেশ সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো অনেক সময় অদৃশ্য থাকায় সাধারণ মানুষ সমস্যার প্রকৃতি টের পাওয়ার আগেই বিপদ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি কিছু শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতাকেই অস্বীকার করেছেন—এই বাস্তবতার মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পর্কে সচেতন করে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বিশ্বজুড়ে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর সমস্যাকে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই ধরনের সঙ্কটের কারণে জ্বালানি বাজারে এবং অর্থনীতিতে ভোলাচাল তৈরি হচ্ছে। আমদানি নির্ভর জ্বালানি নীতি, বাণিজ্যিক ঘাটতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা দেশের অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারক হিসেবে আজকের তরুণদের বুঝতে হবে যে জ্বালানি উত্পাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বৈশ্বিক স্তরে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, সেটির বর্বরতম চেহারাও রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলছেন, ‘যুদ্ধ শিল্প’ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ কীভাবে বিশ্বরাজনীতিকে প্রভাবিত করে এবং সেই প্রভাব পরিবেশের ওপর কীভাবে ক্ষতিসাধন করে, সেগুলোও তরুণদের জানা জরুরি। পরিবেশ বিজ্ঞানের জ্ঞানকে সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকগুলোর সঙ্গে যুক্ত করলে তা শুধুমাত্র তাত্ত্বিক নয়—প্রয়োগযোগ্য ও বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তরিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে তিনি সবুজ জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে তরুণদের আগ্রহকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে বলেন, এই আগ্রহই একটি টেকসই বাংলাদেশ গঠনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, দুইদিনব্যাপি আয়োজিত এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের লিখিত পরীক্ষা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং তত্ক্ষণিক (ইম্প্রম্পটু) বক্তৃতার মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—এমন জ্ঞান অর্জন ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিলে ভবিষ্যতে দেশের নীতি নির্ধারণে তারা আরও দায়িত্বশীল ও দক্ষ ভূমিকা রাখতে পারবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























