১৫ বছরের কিশোর ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশী এক ঝলক দেখিয়ে আইপিএলের উচ্চঙ্খলায় নতুন আলো জ্বালালেন। গুৱাহাটির বারসাপারা স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ২০ ওভারের বদলে ১১ ওভারে সংকুচিত হলে দ্রুত গতির ওই লড়াই হলো—এবং শেষ পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালস মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ২৭ রানে পরাজিত করে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজস্থান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক নৈপুণ্য দেখায়। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে যখন বলে নেমেছিলেন ভারতের তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ, তখনই বুমরাহর প্রথম বলটিকে লং-অন উড়িয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দিলেন সূর্যবংশী। এটিই এই কিশোরের ইনিংসের আদ্যপ্রান্তিক স্নায়ুজীবী মুহূর্ত; গ্যালারির উল্লাসে এমন সাহসী শট দেখে বুমরাহকেও হেসে উঠতে দেখা যায়।
ওই ওভারের পরেই সূর্যবংশী বুমরাহের একটি স্লোয়ার ডেলিভারিকে টের পেয়ে মিডউইকেটে আরও এক ছক্কা জড়িয়ে দেন। বুমরাহর ওই ওভার থেকেই রাজস্থান ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাঁধে তুলে নেয়। ওপেনিং সঙ্গী যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে মিলে মাত্র ২.৪ ওভারে এই জুটির উদ্বোধনী হামলায় স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৫০ রান, যা মুম্বাই বোলিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্ট করে।
বৈভব মাত্র ১৪ বল খেলেই ৫টি ছক্কা ও এক চারের মারসহ ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। শার্দুল ঠাকুরের করা একটি স্লোয়ার ডেলিভারিতে ডিপে ক্যাচ হয়ে তার ঝোড়ো ইনিংস শেষ হয়। তবু এতক্ষণে রাজস্থান একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে ফেলেছে।
নির্ধারিত ১১ ওভারে রাজস্থান রয়্যালস সংগ্রহ করল ৩ উইকেটে ১৫০ রান। লক্ষ্য ১৫১ তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মুম্বাই চাপের মুখে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে না পারায় তাদের চেস্টা ব্যর্থ হয় এবং ১১ ওভারে তারা থেমে যায় ৯ উইকেটে ১২৩ রানে।
অবশেষে রাজস্থান সুসংহত বোলিং ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মিলিয়ে ২৭ রানের জয় তুলে নেয়। দলের নেতৃত্বে থাকা সঞ্জু স্যামসনের নেতৃত্বে জয়টা ছিল পুরো সংস্থার কাম্য অর্জন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বুমরাহর মতো বিশ্বসেরা বোলারের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সে এমন আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ইনিংস খেলেছেন সূর্যবংশী — সেটা আইপিএলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় কাহিনি হিসেবে চিহ্নিত হবে। তরুণ এই ব্যাটসম্যানের এই পারফরম্যান্স আগামী দিনে তাঁকে নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়াবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























