০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

দেশের চামড়া শিল্প টিকে থাকতে কর ও ভ্যাট ছাড় দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও শিল্প মালিকরা। বিশেষ করে ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালের আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশের ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে ট্যানারি শিল্পের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজের বড় অংশ আমদানিনির্ভর; এসব পণ্যে বিভিন্ন শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট করের বোঝা ৩০ শতাংশের বেশি যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা কমাচ্ছে।

তারা প্রস্তাব করেছেন, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতির আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়া হোক। এছাড়া মূল্যভিত্তিক শুল্কের অন্তত ৩ শতাংশ পর্যন্ত অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে বর্তমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

উদ্যোক্তারা আরও বলেন, কাঁচা চামড়া এক পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় এর ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ উৎস কর কেবল শিল্পের উপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। তারা এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকরভাবে দেয়ার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা দূর করাও তাদের অন্যতম দাবি। বর্তমানে এই সুবিধা বাস্তবায়নে নানা বাঁধা ও জটিলতা রয়েছে, যা অপচয় ও কার্যকারিতা কমাচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।

অপরাধপ্রবণ বা অনিয়মিত আমদানি কমাতে এবং শিল্পকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই প্রণোদনা দিলে উৎপাদন ও রফতানি বাড়বে—তাদের বিশ্বাস; একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সভায় অংশ নেয়া শিল্পপতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিমালায় কিছু শর্তসাপেক্ষ শুল্কছাড় থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় আরও স্থায়ী ও কার্যকর ছাড় প্রয়োজন। তারা সুপারিশ করেছেন, বাজেটে এসব দাবি গুরুত্ব দিয়ে নীতিগত ও প্রাযুক্তিক সমাধান নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের চামড়া শিল্প টিকে থাকতে কর ও ভ্যাট ছাড় দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও শিল্প মালিকরা। বিশেষ করে ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালের আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশের ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে ট্যানারি শিল্পের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজের বড় অংশ আমদানিনির্ভর; এসব পণ্যে বিভিন্ন শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট করের বোঝা ৩০ শতাংশের বেশি যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা কমাচ্ছে।

তারা প্রস্তাব করেছেন, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতির আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়া হোক। এছাড়া মূল্যভিত্তিক শুল্কের অন্তত ৩ শতাংশ পর্যন্ত অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে বর্তমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

উদ্যোক্তারা আরও বলেন, কাঁচা চামড়া এক পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় এর ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ উৎস কর কেবল শিল্পের উপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। তারা এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকরভাবে দেয়ার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা দূর করাও তাদের অন্যতম দাবি। বর্তমানে এই সুবিধা বাস্তবায়নে নানা বাঁধা ও জটিলতা রয়েছে, যা অপচয় ও কার্যকারিতা কমাচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।

অপরাধপ্রবণ বা অনিয়মিত আমদানি কমাতে এবং শিল্পকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই প্রণোদনা দিলে উৎপাদন ও রফতানি বাড়বে—তাদের বিশ্বাস; একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সভায় অংশ নেয়া শিল্পপতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিমালায় কিছু শর্তসাপেক্ষ শুল্কছাড় থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় আরও স্থায়ী ও কার্যকর ছাড় প্রয়োজন। তারা সুপারিশ করেছেন, বাজেটে এসব দাবি গুরুত্ব দিয়ে নীতিগত ও প্রাযুক্তিক সমাধান নিশ্চিত করা হোক।