০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক তথ্যমন্ত্রী: ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি ও পরিবেশের জটিল যোগসূত্র তরুণদের অনুধাবন করতে হবে দুদকে আবেদন: আসিফ নজরুল ও মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধান দাবি কলমে ছদ্মবেশী ‘পেনগান’—রাসেলকে হত্যাচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগ হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী সংসদে পাস সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ — আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই রাখল বিল

ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

দেশের চামড়া শিল্প টিকে থাকতে কর ও ভ্যাট ছাড় দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও শিল্প মালিকরা। বিশেষ করে ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালের আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশের ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে ট্যানারি শিল্পের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজের বড় অংশ আমদানিনির্ভর; এসব পণ্যে বিভিন্ন শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট করের বোঝা ৩০ শতাংশের বেশি যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা কমাচ্ছে।

তারা প্রস্তাব করেছেন, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতির আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়া হোক। এছাড়া মূল্যভিত্তিক শুল্কের অন্তত ৩ শতাংশ পর্যন্ত অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে বর্তমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

উদ্যোক্তারা আরও বলেন, কাঁচা চামড়া এক পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় এর ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ উৎস কর কেবল শিল্পের উপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। তারা এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকরভাবে দেয়ার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা দূর করাও তাদের অন্যতম দাবি। বর্তমানে এই সুবিধা বাস্তবায়নে নানা বাঁধা ও জটিলতা রয়েছে, যা অপচয় ও কার্যকারিতা কমাচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।

অপরাধপ্রবণ বা অনিয়মিত আমদানি কমাতে এবং শিল্পকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই প্রণোদনা দিলে উৎপাদন ও রফতানি বাড়বে—তাদের বিশ্বাস; একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সভায় অংশ নেয়া শিল্পপতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিমালায় কিছু শর্তসাপেক্ষ শুল্কছাড় থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় আরও স্থায়ী ও কার্যকর ছাড় প্রয়োজন। তারা সুপারিশ করেছেন, বাজেটে এসব দাবি গুরুত্ব দিয়ে নীতিগত ও প্রাযুক্তিক সমাধান নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ

ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের চামড়া শিল্প টিকে থাকতে কর ও ভ্যাট ছাড় দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও শিল্প মালিকরা। বিশেষ করে ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালের আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশের ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে ট্যানারি শিল্পের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজের বড় অংশ আমদানিনির্ভর; এসব পণ্যে বিভিন্ন শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট করের বোঝা ৩০ শতাংশের বেশি যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা কমাচ্ছে।

তারা প্রস্তাব করেছেন, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতির আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়া হোক। এছাড়া মূল্যভিত্তিক শুল্কের অন্তত ৩ শতাংশ পর্যন্ত অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে বর্তমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

উদ্যোক্তারা আরও বলেন, কাঁচা চামড়া এক পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় এর ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ উৎস কর কেবল শিল্পের উপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। তারা এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকরভাবে দেয়ার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা দূর করাও তাদের অন্যতম দাবি। বর্তমানে এই সুবিধা বাস্তবায়নে নানা বাঁধা ও জটিলতা রয়েছে, যা অপচয় ও কার্যকারিতা কমাচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।

অপরাধপ্রবণ বা অনিয়মিত আমদানি কমাতে এবং শিল্পকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই প্রণোদনা দিলে উৎপাদন ও রফতানি বাড়বে—তাদের বিশ্বাস; একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সভায় অংশ নেয়া শিল্পপতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিমালায় কিছু শর্তসাপেক্ষ শুল্কছাড় থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় আরও স্থায়ী ও কার্যকর ছাড় প্রয়োজন। তারা সুপারিশ করেছেন, বাজেটে এসব দাবি গুরুত্ব দিয়ে নীতিগত ও প্রাযুক্তিক সমাধান নিশ্চিত করা হোক।